🕓 সংবাদ শিরোনাম

চলতি সপ্তাহেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম * রবির ১৪ জনকে আসামি করে অভিনেত্রী সোহানা সাবার মামলা * ❏ অ্যাম্বুল্যান্সে উঠিয়ে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক চালক * ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ১৭৫ * অনলাইনের আওতায় আসছে সরকারি টিএ-ডিএ বিল * টোল প্লাজায় থানার ওসি ও গাড়িচালকে কুপিয়ে মোবাইল-টাকা ছিনতাই ! * প্রবাসী ছদ্মবেশে যেভাবে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সর্বস্ব লুটে নিতেন অজ্ঞান পার্টি * সবজির হাটে নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাক, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ * রাতভর ফ্ল্যাটে আটকে কিশোরী ও শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৫ অভিযুক্ত * কুবিতে ছাত্রলীগের দু-পক্ষের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, হল বন্ধের ঘোষণা *

  • আজ রবিবার, ১৭ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২ অক্টোবর, ২০২২ ৷

মেহেদি হাসানের সহায়তায় ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে প্রতিবন্ধি মিজান এখন ব্যবসায়ী


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২ চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর: এক সময় দুই চার টাকার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান (৪০)। তাই দিয়ে তিন অবুঝ সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে কোনরকম খেয়ে না খেয়ে দিনানিপাত করতেন।

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার ভারত সীমান্তবর্তী বাগান বাজার ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের অসহায় এই মিজানের একমাত্র উপার্জন ছিল ভিক্ষাবৃত্তি। তবে সম্প্রতি ভিক্ষাবৃত্তি পেশা ছেড়ে তিনি এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঘুরে গেছে মিজানের ভাগ্যের চাকা। অবসান হয়েছে অভিশপ্ত জীবনের।

ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত মিজানকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কাজ করেছেন তরুণ ব্যবসায়ী মেহেদি হাসান বিপ্লব। যিনি আন্তর্জাতিক কোল এনার্জি কোম্পানি জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি)।

জানা গেছে, মিজান কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটা ঘর পেয়েছেন। এখন আর অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে না। তার মাথাগোঁজার একটা ঠিকানা হয়েছে। তবে তার অনেক ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের সাথে একটা ছোটখাটো মুদি দোকান করা। স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে একটা দোকান, সাথে একটা গরু পুষতে পারলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে একটা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারতেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ব্যক্তির পোস্টে মিজানের এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে সম্প্রতি মিজান দম্পতিকে একটি গরু উপহার দেন ফটিকছড়ির কৃতিসন্তান ব্যবসায়ী মেহেদি হাসান। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারকে একটি মুদি দোকানও করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রতিবন্ধি মিজানকে মূলধনসহ একটি নতুন দোকান উপহার দিয়েছেন মেহেদি হাসান। সোমবার (০৮ আগস্ট) মালপত্রসহ যখন দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয় তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন প্রতিবন্ধি মিজান। তিনি বলেন, ‘আমি আর ভিক্ষা করি না। আমি এখন ব্যবসা করি।’

জানতে চাইলে তরুণ ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বিপ্লব বলেন, ‘মিজানের অসহায়ত্ব ও তার ইচ্ছের কথা ফেসবুকে দেখে আমি কষ্ট পাই। বিশেষত তার ১০ বছরের মেয়েটির কথা ভেবে, যে কিনা কিছুদিন পর ভিক্ষুকের মেয়ে পরিচয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হবে।

আমি জানি, আমাদের সমাজে এমন হাজারও মিজান এভাবেই ভিক্ষা করে সংসার চালায়। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিরা নিয়তির সাথে যুদ্ধ করে এভাবেই টিকে থাকে। কিন্তু মিজান তার পেশা পরিবর্তন করতে চায়। এটা আমাকে চমৎকৃত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমিও একটা কন্যাসন্তানের পিতা। আমি চাই মিজানের মেয়েটিও তারঁ বাবার একটা সম্মানজনক পরিচয়ে পরিচিত হোক। মিজানের ইচ্ছানুযায়ী আমার অর্থায়নে একটা গরুর বাছুর এবং দোকান করে দেয়া হয়েছে। মিজানের অসুস্থ পিতা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিজান এই দোকানটি করে তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তনে চেষ্টা করবে ‘স্বনির্ভর ষ্টোর’র মাধ্যমে ‘অন্ধ মিজান’ এখন মিজান সওদাগর।’

‘আশাকরি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মিজানের এই শুভযাত্রায় তাঁকে একটা আত্মপরিচয়ের জায়গা করে দিবে। মিজান ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে নতুন জীবন পাবে এটাই আমার প্রত্যাশা আর এখানেই আমার প্রাপ্তি।’ যোগ করেন ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান।