🕓 সংবাদ শিরোনাম

রোববার পর্যন্ত ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৯২ * নিজের মেয়েকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যেভাবে নাটক সাজায় বাবা! * কান্নাকাটি করায় বিরক্ত হয়ে ৩৫ দিনের শিশু কন্যাকে পুকুরে ফেলে দেন মা ! * তৃতীয়বারের মতো প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, দুজনকেই শ্রীঘরে নিলো পুলিশ * বন্দরে মিশুক চালক কায়েস’র লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৩ * মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী * ইবির পরিবহন নিয়ে যত অভিযোগ * ফরিদপুরে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে * এবার রাজশাহীতে চলন্ত বাসে ঢুকে গেলো বৈদ্যুতিক খুটি * চলতি সপ্তাহেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম *

  • আজ সোমবার, ১৮ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৩ অক্টোবর, ২০২২ ৷

ফেনীতে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

Feni news
❏ বুধবার, আগস্ট ১০, ২০২২ চট্টগ্রাম

আবদুল্যাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক হিরণ ও ইউপি সদস্য আবদুল হাই মিস্টারের বিরুদ্ধে।

বন বিভাগ ও এলজিইডি কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিপক্ক ও ঝুঁকিমুক্ত গাছ কাটার সুযোগ নেই৷ কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিয়মের বাহিরে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের গাছ কাটার এখতিয়ার নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিরাবাদ ইউনিয়নের ডাকবাংলা-আমির উদ্দিন মুন্সির হাট সড়কের বড় পোল থেকে আল হেরা একাডেমি পর্যন্ত অংশে এলজিইডির সড়কের দুই ধারে অর্ধশতাধিক সরকারি আকাশমণি ও অর্জুন গাছ সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো ছিলো। ঝুঁকিপূর্ণ দুই-তিন গাছ চিহ্নিত হলেও কৃষি জমির সমস্যার কথা বলে ঝুঁকিমুক্ত ও ভালো গাছ কেটে ফেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হাই। মঙ্গলবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকায় এর আগের দিন সোমবার রাত থেকে গাছ কাটা শুরু করেন তিনি। বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন বাঁধায় মঙ্গলবার দুপুরের পর বাকি গাছগুলো কাটতে পারে নি।

স্থানীদের দাবি, বিনা টেন্ডারে বিভিন্ন প্রজাতির ২০টির অধিক গাছ লুট হয়েছে। এর মধ্যে কিছু গাছ ডাকবাংলার কয়েকটি স’মিলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। কিছু গাছ জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাখা হয়েছে। প্রতিটি গাছের মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজর টাকা হবে। সবগুলো গাছের মূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকার বেশি হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সোনাগাজী উপজেলা প্রকৌশলী মনির হোসেন খান বলেন,গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের মালিকানায় রয়েছে। অপরিপক্ক ও ঝুঁকিমুক্ত গাছ কাটার সুযোগ নেই৷ কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয় নি। নিয়মের বাহিরে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের গাছ কাটার এখতিয়ার নেই। যে দপ্তরে অধীনে গাছ পড়ুক কেউ সরকারি গাছ কেটে নিলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মঞ্জুরুল হক বলেন, সম্প্রতি আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ওই সড়কের পাশে কিছু গাছ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বলে একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা তদন্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের তালিকা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে গাছ কাটার নির্দেশ দেয়া হয় নাই। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউপি সদস্য আবদুল হাই মিস্টার বলেন, জমিতে সরকারি গাছ ভেঙ্গে পড়ায় মানুষ ক্ষতি হচ্ছিল। বিষয়টি চেয়ারম্যান সাহেবকেও জানিয়েছি। চেয়ারম্যান হিরণ উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর আমি তাঁর নির্দেশে গাছগুলো কাটিয়েছি।

এ ব্যপারে আমিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক হিরণ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে গাছগুলো কেটে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়ম মেনে নিলাম দেয়া হবে।

এ ব্যপারে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ মৃধা জানানা, এলজিইডি সড়কের ধারে ১৫টি গাছ কাটার প্রমাণ পেয়েছেন। গাছগুলো এলজিইডি সড়কের ধারে একটি সেবা সংস্থা লাগিয়েছিল। নিলাম বা টেন্ডারের বিষয়টি এলজিইডির ব্যাপার। গাছ দেখার দায়িত্ব বন বিভাগের হওয়ায় উভয় দপ্তর এব্যাপার নিয়ে কাজ করবে। তবে বনবিভাগ গাছ কাটার অনুমতি দেয় নি। কাটা গাছগুলো সিস করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা বন কর্মকর্তার নির্দেশে মঙ্গলবার ছুটির দিনেও তিনি ঘটনাস্থলে গেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান ঝুঁকিপূর্ণ গাছের পাশাপাশি বেশ কিছু ঝুঁকিমুক্ত গাছ কাটার প্রমাণ পেয়েছেন। জেলা বন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং বুধবার (১০আগস্ট) প্রতিবেদন দাখিল করে তাঁদের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেনী জেলা বন কর্মকর্তা মাকসুদ আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ভাবে গাছ কাটার কোন নিয়ম নেই। রেঞ্জ কর্মকর্তার প্রতিবেদন নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ইতোমধ্যে তাকে গাছগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ খালেদ হোসেন দাইয়্যান বলেন, এখন পর্যন্ত এ ব্যপারে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।