• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

বিবাহ বহির্ভূতভাবে ১০ মাস সংসার! স্ত্রীর স্বীকৃতিতে নারীর অনশন

Sirajgonj news
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২ রাজশাহী

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: প্রতিবেশী দেবর রুবেলের (৩১) সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে বুলবুলি খাতুনের স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হ‌য়, পরে সেই পরকীয়া প্রেমিকের সাথে ঢাকার সাভারে স্বামী স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। ১০মাস পর কথিত স্বামী পালিয়ে গেলে তার বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান করছেন ২ সন্তানের জননী বুলবুলি খাতুন।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের রতকান্দি উত্তরপাড়ার কৃষক রশিদ সরকারের বাড়িতে। ১০ আগষ্ট রাত সাড়ে আটটায় অবস্থান নেয় ভুক্তভোগি নারী। অভিযুক্ত রুবেল সরকার রশিদ সরকারের ছেলে ও স্ত্রীর দাবিতে অবস্থান নেয়া নারী পার্শ্ববর্তী গ্রামের নুনদহ গ্রামের অয়জুল ফকিরের মেয়ে।

বুলবুলি খাতুন বলেন, রতনকান্দি উত্তরপাড়ার আবু তালেব সরকারের ছেলে সুজনের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুরুজ ও তমা নামের দুইটি সন্তান থাকা অবস্থায় প্রায় ১বছর পূর্বে প্রতিবেশী রশিদ সরকারের ছেলে রুবেলের সাথে তার পরিকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১ বছর পূর্বে সুজন বুলবুলীকে তালাক দেন।

পরে বুলবুলি ও রুবেল একে অপরের হাত ধরে ঢাকার সাভারে পারি জমায়, সেখানে আল মুসলিম গ্রুপের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন বুলবুলি, ২ মাস পর নিজ প্রচেষ্টায় একই ফ্যাক্টরীতে চাকরী নিয়ে দেন রুবেলকে। দীর্ঘ ১০ মাস তারা স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে সাভারের গেন্ডাবাজারের টিয়া বাড়িতে একটি বাসায় ভাড়া থাকতো।

বুলবুলি খাতুন আরো বলেন, রুবেল তাকে নিয়ে অজ্ঞাত এক অফিসে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং বলে আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। তবে তার মনে সন্দেহ হলে তিনি আবারও রুবেলকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রুবেল কয়েকদিন পূর্বে বুলবুলির বিকাশ একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করে লাপাত্তা হয়।

এই বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, রুবেল ছেলেটা খুব বখাটে ও মেয়ে লোভী স্বভাবের। এর আগেও সে বিয়ে করে সেই স্ত্রীকে নির্যাতন করতো বলে মেয়েটি চলে গেছে। সে এলাকার গৃহবধু ও মেয়েদের কু-প্রস্তাব দিয়ে থাকে এবং ইতিপূর্বে প্রতিবেশী এক নারীকে গভীর রাতে তার বাড়িতে গিয়ে জড়িয়ে ধরলে এলাকার লোকজন তাকে উত্তমমাধ্যম দেয়।

তারা আরও বলেন, রুবেলের কু-নজরের পরে গ্রামের অনেকের সংসার ভেঙে গেছে। রুবেলের এই কাজে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় তার মা এবং বাব। এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামের নারীদের নিরাপত্তার জন্য রুবেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেলের মা বলেন, রুবেল গতমাসেই ঢাকায় চলে গেছে। এই মেয়ে যে অভিযোগ করছে সেটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পূর্বের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমার ছেলের বিষয়ে লোকে নানান কথা বলে তবে কেউ প্রমাণ দিতে পারেনি।

এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। অভিযু্ক্ত রুবেল যেন পরবর্তীতে এই ধরণের কাজ আর না করতে পারে এবং ভুক্তভোগী নারী যেন ন্যায় বিচার পায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।