ইস্টার আইল্যান্ড: অসংখ্য দানব আকৃতির মূর্তি-রহস্যের দ্বীপের অজানা কথা!


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২ চিত্র বিচিত্র

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর: সৌন্দর্যে ভরপুর আবার রহস্যেও আবৃত এমন এক বিস্ময়কর  দ্বীপ রয়েছে। যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য দানব আকৃতির মূর্তি। দেখলে মনেহবে যেন চেয়ে আছে অকল্পনীয় বিশাল দানব আকৃতির মূর্তিগুলো।

এই দ্বীপের নাম  ইস্টার আইল্যান্ড। ইস্টার আইল্যান্ড জাতিসংঘের World Heritage Site হিসেবে নির্বাচিত। সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপের মুর্তি রহস্য নিয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে।

এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের লাভা নির্মিত বৃক্ষশূন্য একটি আগ্নেয় দ্বীপ।  এর আয়তন ৬৪ বর্গমাইল। ত্রিভূজ আকারের দ্বীপটির অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার চিলি উপকূলের ২৩০০ মাইল পশ্চিমে। ইস্টার দ্বীপে সারা বছরই গরম থাকে। আছড়ে পড়ে পাগলাটে বানিজ্য বায়ূ । দ্বীপটি এক সময় উদ্ভিদশূন্য হয়ে পড়েছিল। এখন অবশ্য দ্বীপটিতে বিস্তর ঘাস, আলু, আখ, টারো নামে এক ধরনের শিকড়, তামাক আর ক্রান্তিয় ফল জন্মায়।

দ্বীপটির পানির অন্যতম উৎস আগ্নেয় হ্রদের বৃষ্টিজল । ইস্টার দ্বীপটি সৃষ্ট হয়েছে আগ্নেয় শিলা দ্বারা। দ্বীপটির মৃত আগ্নেয়গিরির নাম রানো রারাকু। এখন অবশ্য জায়গাটি ঘাস রয়েছে। উপকূলে আছে আগ্নেয় গুহা। আর লাভার সুড়ঙ। সৈকতে আছে প্রবাল। উত্তরপুবের বালিয়াড়িটি বালিময় । দ্বীপজুড়ে সামুদ্রিক পাখির অভয়ারণ্য।

ইস্টারদ্বীপের আরেক নাম রাপানুই। ইস্টার দ্বীপের অবস্থান তাহিতি দ্বীপের ২,৫০০মাইল দক্ষিণ পূর্বে। উনিশ শতকে তাহিতি দ্বীপের এক পর্যটক  ইস্টার দ্বীপে এসে বলেছিল,এই দ্বীপ নাকি  তাহিতি দ্বীপের রাপার মতন দেখতে।  আর নুই মানে বড়। সেই থেকেই ইস্টার দ্বীপের আরেক নাম রাপানুই। ইস্টার দ্বীপবাসীদের নামও হয়ে গেল রাপানুই।

এককালে রাপানুইরা তাদের দ্বীপটিকে বলত, ‘তে পিটো ও হেনুয়া ‘এর মানে-পৃথিবীর নাভি। স্প্যানিশ ভাষায় ইস্টার দ্বীপের নাম অবশ্য – ইসলা দে পাসকুয়া। ১৭২২ সালে অ্যাডমাইরাল জ্যাকব রগে উইন দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। সেদিন ছিল ইস্ডাটার সানডের দিন। তাই তিনি দ্বীপটির নাম দেন ‘ইস্টার আইল্যান্ড’।

১৭২২ সালে এক ওলন্দাজ অভিযাত্রী দল প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ভাসতে ভাসতে একটি দ্বীপে এসে উপস্থিত হলেন। যে দ্বীপের চারদিকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য দানব আকৃতির মূর্তি। অকল্পনীয় বিশাল দানব আকৃতির মূর্তিরা যেনো তাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। দ্বীপের এই সব মূর্তিগুলো দেখে ওলন্দাজ অভিযাত্রী দলের সবাইতো অবাক!

সবার কৌতুহলে সেই ওলন্দাজ অভিযাত্রী দলের ক্যাপ্টেন অ্যাডমিরান জ্যাকব রগেভিন সিদ্ধান্ত নিলেন এই দ্বীপেই জাহাজের নোঙর ফেলবেন। তাঁর যেই কথা সেই কাজ। তৎক্ষনাৎ সবাই জাহাজেই অবস্থান করলেন। এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায়। দ্বীপের চারদিক জুড়ে নেমেছে অন্ধকার। ফলে সবাই সারারাত ভয়ে কাঠ হয়ে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে রইলেন-কখন ভোর হবে, চারদিক আলো করে সূর্য  উঠবে পুরো দ্বীপ জুড়ে।

সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভয় ভেদে গেলো সবার। যখন দেখলো তারা, নিশ্চল মূর্তিগুলো সত্যিই মূর্তি। অভিযাত্রী দল লক্ষ্য করলেন, বিশাল বিশাল পাথরের মূর্তিগুলো সারা দ্বীপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে উৎসাহের সঙ্গে সবাই জাহাজ থেকে নেমে পড়লেন। দ্বীপের মানুষ জনের সঙ্গেও দেখা হল সবার। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়-অভিযাত্রী দল তথ্য নিয়ে জানতে পারলেন-দ্বীপের মানুষেরা এই মূর্তিগুলো গড়েনি।

তারা জানেও না, কে বা কারা এই মূর্তিগুলো গড়েছিলো। তবে এই মূর্তিগুলোকে দেবতা মনে করে দ্বীপবাসীরা নিয়মিত পুজো দেয়। ফরে দ্বীপে ছুড়িয়ে থাকা এই মূর্তিগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পুরো ওলন্দাজ অভিযাত্রী দলের আরো কৌতুহল বেড়ে গেলো। জ্যাকব রগেউইন তার ডায়েরীতে ইস্টার আইল্যান্ডের এক অদ্ভুত দৃশ্যের কথা লেখেন। তা হল-বিস্ময়কর রকমের বড় পাথরগুলো উপকূল বরাবর দাঁড় করানো ছিল।

পরবতরী বছরগুলোতে অনেকে ওই অদ্ভুত মূর্তিগুলো সম্বন্ধে অনেক মজার মজার মন্তব্য করেছেন। উলেস্নখ্য, ইস্টার আইল্যান্ডের মূর্তিগুলো সবই তৈরি হয়েছে বিশাল পাথর কুঁদে বা কেটে। কিন্তু গবেষকদের প্রশ্ন হল এই দ্বীপ বাসীরা সেই কৌশল শিখলো কি করে? আর পাথরগুলোই তারা বয়ে আনলো কিভাবে এবং কোথা থেকে? এব্যাপারে দ্বীপবাসীদের কেউ কিছু জানেনা।

অথচ যুগ যুগ ধরে এই মূর্তিগুলো ইস্টারদ্বীপেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে অভিযাত্রী দলের সকলেই অবাক হলেন।

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ব্লগ।

ইস্টার আইল্যান্ডঃ অসংখ্য দানব আকৃতির মূর্তি-রহস্যের দ্বীপ! (শেষ পর্ব)