🕓 সংবাদ শিরোনাম

ইরানে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ * ঢামেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দীর মৃত্যু * ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার * টুর্নামেন্টের ‘ট্রফি ভাঙা’ সেই ইউএনও মেহরুবাকেকে বদলি * ধানমন্ডিতে রিকশা থেকে পড়ে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু * বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি নিশ্চিতে নেপিদো’র সঙ্গে আলোচনা করবে চীন * ইংল্যান্ড-জার্মানির রুদ্ধশ্বাস ড্রয়ের দিনে ইটালির সহজ জয় * পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ৬ মরদেহ উদ্ধার, মৃত বেড়ে ৫৬ * আটঘরিয়ায় আ’লীগ-বিএনপি একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি * ইরানে হিজাব বিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৫ *

  • আজ মঙ্গলবার, ১২ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

ইস্টার আইল্যান্ডঃ অসংখ্য দানব আকৃতির মূর্তি-রহস্যের দ্বীপ! (শেষ পর্ব)


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২ চিত্র বিচিত্র

আরেফিন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর: ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে এই রহস্যের কথা ছড়িয়ে পড়লো। ইস্টার আইল্যান্ড নিয়ে শুরু হল গবেষণা। বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্ব থর হেয়ারডাল প্রচুর গবেষণা ও খনন কার্যের পর তথ্য দিলেন ৩৮০ খৃষ্টাব্দে পেরু থেকে কিছু মানুষ এসে এই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। তারা তৈরী করেছিলো রাস্তা, মন্দির, মানমন্দির ও সুরঙ্গ পথ।

১২৮০ খৃষ্টাব্দে পেরু থেকেই অন্য লোকজন এসে দ্বীপটি দখল করে নেন। ধারণা করা হয়, তারাই এই মূর্তিগুলো গড়েন। মূর্তিগুলোর কান লম্বা। কারণ পেরুবাসীদের মধ্যে কানে ভারি দুল পরে কান লম্বা করার রেওয়াজ ছিল। এর প্রায় চারশত বছর পর ১৬৮০ সালে পলি নেশীয়রা এশিয়ার দিক থেকে এসে দ্বীপটি অধিকার করে, এবং সে সময় মূর্তি তৈরি প্রচলন লোপ পায়। রেডিও কার্বন পরীক্ষার সাহায্যে থর হেয়ারডাল এসব তথ্য পৌছালেও বহু গবেষক এর বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, দ্বীপ সংলগ্ন আগ্নেয়গিরি থেকে বিরাট গাছের গুঁড়ির সাহায্যে পাথর গড়িয়ে এনে এই মূর্তিগুলো গড়া হয়েছে।

তাই থরের এই তত্ত্ব অনেকে মেনে নিলেন না। তাদের মতে, এক অতি প্রাচীন, অথচ উন্নত সভ্যতার চিহ্ন এগুলো। হয়তো সেই সভ্যতা প্রকৃতির খেয়ালে কোন কালে প্রশান্ত মহাসাগরের অতলে তলিয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু গবেষক এব্যাপারে তথ্য দিয়েছেন ভিন্ন ভাবে।

তাদের মতে ১৭৭০ সালে স্পেনের একদল মানুষ ফিলিপ গঞ্জালেসের নেতৃত্বে এসে মূর্তিগুলোর টুকরো কুড়াল দিয়ে কেটে নিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু দ্বীপবাসী মানুষের মিলিত আক্রমণে তারা পিছিয়ে আসেন। এরই মধ্যেই আবার এই একই দ্বীপের আবিষ্কৃত হল কিছু কাঠের বোর্ড, যার ওপর লেখা আছে আশ্চর্য সব লিপি যার পাঠোদ্ধার করতে দ্বীপের মানুষেরাতো বটেই, বড়ো বড়ো পন্ডিতরা পড়তে ও অক্ষম হলেন। এগুলোর নাম দেয়া হল রং গোরগো।

১৮০০ শতাব্দীতে মূর্তিগুলো মাটিতে পড়ে যায়। এর কিছুকাল পরেই প্রত্নতত্ত্ববিদগণ মূর্তিগুলো সমন্বন্ধে অনুসন্ধান শুরু করেন। অনুসন্ধানীদের মতে ইস্টার আইল্যান্ডের উপকূল বতরী অঞ্চলের সীমানায় এই প্রতিমূর্তিগুলো স্থাপিত। যার বৃহৎ মস্তকগুলো দ্বীপের অন্তর্ভাগের দিকে মুখ করে আছে। এদের উচ্চতা প্রায় তিনফুট থেকে ছত্রিশ ফুট পর্যন্ত। এদের ওজন প্রায় কুড়ি টন।

এই রকম এক হাজারেরও বেশী মূর্তি এযাবৎ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই মূর্তিগুলোর নাম (গঙও) মই। তাছাড়া আরো আছে, পাথুরে তৈরী আটশতটি মস্তুক। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মস্তকটির উচ্চতা বত্রিশ ফুট এবং ওজন নব্বইটন। তাছাড়া অধিকাংশ মূর্তিই তেরো থেকে ষোলো ফুট লম্বা ছিল। কোন কোনটির ওজন ছিল প্রায় পঁচাশিটন। ধারণা করা হয় মূর্তিগুলো খাঁড়া করতে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ক্রেন ব্যবহার করতে হয়েছে।

কিন্তু এও সত্য যে প্রাচীন দ্বীপবাসীদের কোন ক্রেন ছিল না। এমনকি তাদের কোন চাকাও ছিল না। তাহলে প্রশ্ন জাগে মনে, মূর্তিগুলো কিভাবে এলো উপকূলে। কোন কোন বিশেস্নষকের মতে মূর্তিগুলোকে আগ্নেয়গিরির ডাল থেকে নামানোর জন্য দ্বীপ বাসীরা আখের তৈরী মোটা দড়ি ব্যবহার করতো। পরে গাছের গুড়ির সাহায্যে তারা মূর্তিগুলোকে খাঁড়া করে উপকূলে নিয়ে যেতো। অথবা চ্যাপটা আকারে কর্বের উপর মূর্তিগুলো রেখে টেনে নিয়ে যেতো। পরে গাছে গুড়িকে লিভার হিসাবে ব্যবহার করে মূর্তিগুলো খাড়া করতো।

উল্লেখ্য, ইস্টার আইল্যান্ডের মূর্তিগুলো যে পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল, সেইসব পাথর বৃক্ষকান্ডের তৈরী এক ধরনের সেস্নজগাড়ি দিয়ে বয়ে আনা হয়েছিল। অনুমান করা হয় যে, তখন সেই দ্বীপের জনসংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার। প্রত্নতত্ত্ব বিদ উইলয়াম মুলয় বলেন, এই দ্বীপের অধিবাসীরা একদিনের মধ্যে এক হাজার ফুটের বেশি দূর পর্যন্ত ওই ভারী পাথর বহন করে আনতে পারেনে। যদিও কাঠের ফ্রেম দিয়ে এই মূর্তিগুলো তৈরী করা হয়েছিলো বলে মনে করা হয়।

লক্ষ্যনীয়, কতগুলি মূর্তির চোখ আবার সম্পূর্ণ তৈরী ছিলনা। এজন্য তাদের বলা হয় অন্ধমূর্তি। ইস্টার আইল্যান্ডে এরকম মূর্তি রয়েছে প্রায় একশতটি। যদিও এগুলোর চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ছিল ছয়শতটির ও বেশি লম্বা কানওয়ালা মূর্তি। যার মধ্যে দ্বীপের ধারে অবস্থিত সবচেয়ে বড়োটির দৈর্ঘ্য ছিল তেত্রিশ ফুট এবং ওজন ছিল আশি টন।

ইস্টার আইল্যান্ডের  মুর্তি রহস্য নিয়ে এখনও বিস্তর গবেষণা চলছে। আইল্যান্ড-এর রহস্য উন্মোচিত হবে এই অপেক্ষায় রয়েছে অনেকেই।

সুত্রঃ ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ব্লগ।

পুর্বের পর্ব পড়তে চাইলে- এখানে দেখুন 

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন