🕓 সংবাদ শিরোনাম

রোববার পর্যন্ত ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৯২ * নিজের মেয়েকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যেভাবে নাটক সাজায় বাবা! * কান্নাকাটি করায় বিরক্ত হয়ে ৩৫ দিনের শিশু কন্যাকে পুকুরে ফেলে দেন মা ! * তৃতীয়বারের মতো প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, দুজনকেই শ্রীঘরে নিলো পুলিশ * বন্দরে মিশুক চালক কায়েস’র লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৩ * মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী * ইবির পরিবহন নিয়ে যত অভিযোগ * ফরিদপুরে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে * এবার রাজশাহীতে চলন্ত বাসে ঢুকে গেলো বৈদ্যুতিক খুটি * চলতি সপ্তাহেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম *

  • আজ সোমবার, ১৮ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৩ অক্টোবর, ২০২২ ৷

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরে রড না দেয়ায় ১১টি ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

Sunamgonj news
❏ শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০২২ সিলেট

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও রড় না দেয়াসহ নানান অনিয়মের অভিযোগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রশাসন ১১টি ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরে রড না দিয়ে নিম্নমানের কাজ চলছে অভিযোগ পেয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে তৃতীয় পর্যায়ে নির্মিত ৫৯ টি ঘরের মধ্যে ১১ টি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার রাত ৮ টা থেকে রাত ২ ঘটিকা পর্যন্ত এই ১১ টি ঘরের গ্রেড ভিম ভাঙ্গার কাজ করান নির্বাহী কর্মকর্তা। ভাঙ্গনের সময় নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামিলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হান্নান, দোয়ারাবাজার থানায় এস আই মিজানুর রহমান, এস আই নোমান আহমদ, এস আই পিন্টু, ইউপি সদস্য ফরহাদ আলম, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পর শনিবার সকালে (১৩ আগস্ট) ভেঙে ফেলা ঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো জাহাঙ্গীর হোসেন।
তিনি মিস্ত্রিদের নিজস্ব অর্থায়নে আগামী পাঁচ দিনের ভেতর সঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার নির্দেশনা দেন।

আমিন মিয়া,সাজিদ রহমানসহ স্থানীয়দের সাথে কথা জানাযায়,গৃহ নির্মাণের প্রত্যেকটি ধাপে ধাপে অনিয়ম করা হয়েছে। গ্রেড ভিমের ভিতরে ৪ টি রডের বদলে কোন ভিমে দেয়া হয়েছে একটি রড আর অধিকাংশ ভিমে কোন রড দেয়া হয়নি। অনেক ঘরে কোনো রডই নেই। ব্যবহার করা হয়েছে বাশঁ।ইটের উপর ইট বসিয়ে সিমেন্টের গাঁথুনি ছাড়াই লিন্টার তৈরি করা হচ্ছে। বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ভিট মাটি, পাথরের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্লকের অবশিষ্টাংশ। সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে শুধু নামমাত্র। প্লেটের পরিবর্তে কাঁদা মাটিতে বালু পাথর মিশ্রণ করার দৃশ্যও দেখাগেছে।

কাজ করার কথা উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে। কিন্তু এই ৫৯ টি ঘরের কাজ সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আম্বিয়া আহমদ দুইজনের সহযোগীতায় সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য তাজির কাজ করার অনুমতি পান। আর সেই কাজ প্রতিরাতে গ্রেট ভিম ও ডালাইয়ের কাজ করেছে তারা রাতের আঁধারে।

স্থানীয়রা আরও জানান,প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ঐ কাজের কাছা কাছি লোকজন যেতে ভয় পায়। সেই সুযোগে তাজির উদ্দিন, বাজারের কামারপট্রি এলাকার কমল দে ও নৈনগাঁও গ্রামের নুরুদ্দিন তিনজন মিলে তাদের ইচ্ছে মত কাজ করেন।

এব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা জানায়, উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে তৃতীয় পর্যায়ে নির্মিত ৫৯ টি ঘরের মধ্যে ১১ টি ঘর নির্মাণের অনিয়মের প্রমান পেয়ে ইতি মধ্যে ৭ টি ঘরের গ্রেড ভীম ( নিচের লিন্টার ও ইট) ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাকি যে ঘর তৈরি করা হয়েছে সব কয়টা ঘরের কাজ তদারকি করে দেখা হবে। যদি কোন ঘরের কাজে ত্রুটি থাকে তাহলে সেই গোলো ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।