বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ৫০ বছর ধরে ছবি আঁকছেন শিল্পী কাজী কাসেম


❏ রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০২২ ঢাকা, দেশের খবর

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তার ছবি আঁকছেন এক চিত্রশিল্পী। তার নাম কাজী আবুল কাশেম। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এভাবেই ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে আসছেন এই শিল্পী। তার ছবি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সবাই।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সবার ছবি আঁকার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে তিনি। তবে শিল্পী হিসেবে এখনও তিনি পাননি কোন স্বীকৃতি ও অনুদান।

শিল্পী কাজী আবুল কাশেমের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীর কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে। তার পিতা মৃত আব্দুস ছামাদ। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। এলাকায় তিনি শিল্পী কাজী ভাই নামে পরিচিত।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও শিল্পী কাজী আবুল কাশেমের সাথে কথা বলে জানাযায়, ছোট সময় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর থেকেই তিনি আকৃষ্ট হন। ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে ‘ভাইয়েরা আমার’ শব্দটি তার মনের মধ্যে লাগে। এর পর থেকেই মনের মধ্যে গেঁথে ফেলেন শব্দটি। সেই থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার ভালোলাগা আজও তার কাজে প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছেন৷

মহান মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে তার অবদান। সেই সময় বাজনা গাছের কাঁটার মধ্যে খুদায় করে সিল তৈরি করতেন। পরে রং দিয়ে মনোগ্রাম তৈরি করে এসব সিল মুক্তিযোদ্ধার বুকে লাগিয়ে দিতেন। এভাবেই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ করতেন তিনি।

বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিছানার নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক ছবি। নিজের বিছানার মাথার নিচে তোশকে অসংখ্য ছবি যত্ন করে রাখা। ঘরে ঢুকতেই বারান্দায় দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর ছবি। তার একটু সামনেই বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও তার মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

এছাড়াও অনেক পুরাতন বঙ্গবন্ধুর ছবি যুক্ত টাকাও সংগ্রহে রেখেছেন তিনি। নিজ জেলা ছাপিয়ে তিনি আশপাশের অন্তত ৬টি জেলায় গিয়ে ছবি এঁকেছেন। তার ছবি বিভিন্ন সরকারি স্কুলে এবং বেসরকারী বিভিন্ন স্থাপনায় অংকিত।

স্থানীয় পাইকান বাজারে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে জানতে চাইলে এক নামেই তারা চিনতে পারলেন। এসময় কথা হয় এলাকাবাসীর অন্তত ১০ জনের সাথে। তারা বলেছেন, ছোট সময় থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি আকৃষ্ট। বিষয়টি কারো অজানা নয়। তার ছবিগুলোতে বঙ্গবন্ধুর তাদের দাবি হচ্ছে স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। এছাড়াও তার বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংগ্রহশালা তৈরি করে দেওয়ার দাবিও করেন তারা।

ছেলে আরিফুল ইসলাম দিদার বলেন, ‘ছোট সময় থেকেই দেখে আসছি বাবা বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। ছবি নিয়ে বসার সময় তিনি খাবারের কথাও ভুলে যান। ধ্যান থাকে ছবি নিয়ে। আমরা তাকে সাপোর্ট দেই সবকিছুতে।’

বঙ্গবন্ধুর ভক্ত শিল্পী কাজী আবুল কাশেম বলেন, ‘বাড়িতে একটি বঙ্গবন্ধু ছবি সংগ্রহশালা তৈরি ও একটি বই তৈরি করার ইচ্ছে রয়েছে। এছাড়া আমার স্বপ্ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ছবিগুলো তুলে দেওয়ার।’