🕓 সংবাদ শিরোনাম

মধুর সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই সন্তানকে খাওয়ানোর পর আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের * অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে গুলশানের স্পা সেন্টার থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার * রোববার পর্যন্ত ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৯২ * নিজের মেয়েকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যেভাবে নাটক সাজায় বাবা! * কান্নাকাটি করায় বিরক্ত হয়ে ৩৫ দিনের শিশু কন্যাকে পুকুরে ফেলে দেন মা ! * তৃতীয়বারের মতো প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, দুজনকেই শ্রীঘরে নিলো পুলিশ * বন্দরে মিশুক চালক কায়েস’র লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৩ * মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী * ইবির পরিবহন নিয়ে যত অভিযোগ * ফরিদপুরে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে *

  • আজ সোমবার, ১৮ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৩ অক্টোবর, ২০২২ ৷

গার্ডার দুর্ঘটনা: রুবেলের মরদেহ নিতে মর্গে স্ত্রী দাবিদার ৪ নারী


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের একটি গার্ডারের চাপায় প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ নিহত ৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকালে বিমানবন্দর সড়কে বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের ফ্লাইওভারের বক্স গার্ডার চাপায় পিষ্ট গাড়িতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বর-কনে। তাদের বউভাতের অনুষ্ঠান ছিল এদিন।

তবে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বরের বাবা আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল (৫৫), কনের মা ফাহিমা আক্তার (৩৮), কনের খালা ঝর্না আক্তার (২৭) ও খালাতো ভাই-বোন জান্নাতুল (৬) ও জাকারিয়া (৪)।

এদিকে সোমবারের দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের মধ্যে বরের বাবা রুবেলের স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রাট। মর্গের সামনে চার নারী নিজেকে রুবেলের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন।

মর্গের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আত্মীয়-স্বজনেরা ভিড় করছেন। অনেকেই কান্নাকাটি করছেন। সেখানেই জানা যায় রুবেলের মরদেহ নিতে মর্গের সামনে হাজির হয়েছেন চার নারী। তারা সবাই নিজেকে রুবেলের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

তাদের মধ্যে প্রথম স্ত্রী হিসেবে দাবি করা রেহানার সঙ্গে বিয়ে হয় ৩০ বছর আগে। সেই ঘরের প্রথম ছেলে সন্তান হৃদয় সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরেন।

প্রথম স্ত্রী রেহানার বোনজামাই ও রুবেলের ভায়রাভাই রহমত জানিয়েছেন, ‘আমরা শরিয়তপুরে থাকি। আমাদের রুবেল বায়িং হাউজের ব্যবসা করতেন বলে জানতাম। আমরা তেমন একটা ঢাকায় আসতাম না। মৃত্যুর খবর শুনে আসলাম। শুনেছিলাম সে দ্বিতীয় আরেকটা বিয়ে করেছেন।’

অন্যদিকে, রুবেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম শাহেদা। তার ঘরে রত্না নামে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সিংগাইর এলাকায়। ঢাকায় উত্তরা থাকেন।

তবে, দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা নিজেকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ১৯৯৯ সালে বিয়ে হয়েছে। আমিই প্রথম। আমাকে সে কখনো বলেনি তার আরেকজন স্ত্রী আছে।

রুবেলের তৃতীয় স্ত্রী দাবি করা আরেক নারীর নাম সালমা আক্তার পুতুল। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় থাকেন তিনি। ঘরে বসে সেলাই মেশিনের কাজ করেন। ২০১৪ সালে রুবেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রুবেলের সম্পর্কে তিনি জানতেন সে একজন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী। তবে, রুবেলের সঙ্গে কোনো বিয়ের কোনো সনদ নেই তার।

সনদ ছাড়া কীভাবে স্ত্রী দাবি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে বিয়ে করেছে মিথ্যা কথা বলে। আমি জানতাম তার স্ত্রী আছে মাত্র একজন। প্রথম ঘরের স্ত্রী অসুস্থ বলে আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর দেখি আরও অনেকের সঙ্গেই তার সম্পর্ক আছে। পাতা খন্দকার নামে তার আরেকজন স্ত্রী আছে। তার সঙ্গে কথা বললে আমাকে বলতো মামাতো বোনের সঙ্গে কথা বলছি। পরে আমি প্রতারণার মামলা করি। মামলা আমার পক্ষেও আছে। এমনটাই দাবি তার।

এরপর পাতা খন্দকার নামে আরেকজন স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়। যাকে রুবেল বিয়ে করেন ২০২০ সালের দিকে। নামপ্রকাশ না করা শর্তে এমনটাই জানান পাতা খন্দকারের ভাগিনা।

পাতা খন্দকার বলেন, আমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে অনেক দিন আগে। তবে কবে হয়েছে স্পষ্ট বলেননি তিনি। তিনি দাবি করেন, আমিই দ্বিতীয় স্ত্রী। বাকিরা প্রথম স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বাসায় কাজ করতেন। তখন তাদের বিয়ে করেছেন। এ বিয়ের কোনো ভিত্তি নেই।

পাতা খন্দকার দাবি করেন, তিনি এ পর্যন্ত রুবেলের পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। যে গাড়িটি চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে, সেটিও কেনার সময় ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন রুবেলকে। মারা যাওয়ার আগেও তার বাসায় গিয়ে ছিলেন রুবেল। তার সঙ্গে সবারই ভালো সম্পর্ক। প্রথম স্ত্রীর বাড়িতেও তিনি যাতায়াত করতেন বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেলের চারজন স্ত্রী আছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় রহমত বলেন, এখন অনেকেই অনেক কিছু বলতে আসবে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। আমরা তাদের চিনিও না। আমরা প্রথম ঘরের আত্মীয়। আমরা সবাই এসেছি। আমাদের ঘরের প্রথম ছেলে আছে।

উল্লেখ্য, কোনো রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়াই রাজধানীর উত্তরায় ব্যস্ত সড়কে বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের গার্ডার সরানোর কাজ চলছিল। গার্ডারটি সরানোর সময় এর ভার নিতে পারেনি ক্রেন। ফলে ক্রেন কাত হয়ে গার্ডারটি একটি প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে।

এতে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিতভাবে ক্রেন পরিচালনাকারী চালক, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি হয়।

দুর্ঘটনায় নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝর্না আক্তারের ভাই আফরান মণ্ডল বাবু বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করেন। মামলা নম্বর ৪২।

এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সব কাজ আপাতত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।