🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শনিবার, ১৬ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ১ অক্টোবর, ২০২২ ৷

মানিকগঞ্জে অব্যহতির পরও বহাল তবিয়তে প্রধান শিক্ষক

Manikganj news
❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০২২ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট(মানিকগঞ্জ): দুর্নীতি-অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলী ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবর রহমানকে অব্যাহতি দিলেও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

জানা গেছে, মজিবর রহমান প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই কর্তব্যে অবহেলা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ, বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে আর্থিক লেনদেন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে উন্নয়ন ফি বাবদ মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন। সর্বশেষ ২০২১ সনের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ আদায়কৃত অর্থের অব্যয়িত অর্থ ফেরত প্রদানের সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন।

অভিযোগে আরও জানা যায়, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের পুরাতন টিন, কাঠসহ বিভিন্ন অস্থাবর সম্পতি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাত করার পাশাপাশি ১০৫টি সিমেন্টের খুঁটি নিজ জমিতে ব্যবহার করেছেন। বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থাকা সত্বেও তিনি শিক্ষকদের বিদ্যালয় অংশের বেতন ১৮ মাস যাবত বন্ধ রেখেছেন। এমনকি নৈশপ্রহরী কামরুল হাসানের বেতন ২০১২ সাল থেকে বন্ধ রেখেছেন।

ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আজিম, তারেক, পারভীন, পাপিয়া ও মিতু জানান, প্রধান শিক্ষক আমাদের নিকট থেকে উন্নয়ন ফি বাবদ দেড়’শ থেকে ৫’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ২০২১ সনের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ আদায়কৃত অর্থের অব্যয়িত অংশ ফেরত দেওয়ার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও আমরা অদ্যাবধি তা ফেরত পাইনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন প্রকার জবাব না দেওয়ায় বিধি মোতাবেক গত ২ আগষ্ট তাকে প্রত্যাহার পুর্বক সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার সরকারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করি।

নিরঞ্জন কুমার সরকার জানান, আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সভাপতির স্বাক্ষরিত চিঠি পেলেও এখনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি।
মোহাম্মদ মজিবর রহমান জানান, অব্যহতি পত্র পেয়েছি। আমি এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। একটি মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইমদাদুর রহমান তালুকদার বলেন, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্ণীতিÑঅনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন প্রক্রিয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছে তা জানতে সভাপতিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।