🕓 সংবাদ শিরোনাম

মধুর সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই সন্তানকে খাওয়ানোর পর আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের * অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে গুলশানের স্পা সেন্টার থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার * রোববার পর্যন্ত ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৯২ * নিজের মেয়েকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যেভাবে নাটক সাজায় বাবা! * কান্নাকাটি করায় বিরক্ত হয়ে ৩৫ দিনের শিশু কন্যাকে পুকুরে ফেলে দেন মা ! * তৃতীয়বারের মতো প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, দুজনকেই শ্রীঘরে নিলো পুলিশ * বন্দরে মিশুক চালক কায়েস’র লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৩ * মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী * ইবির পরিবহন নিয়ে যত অভিযোগ * ফরিদপুরে আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে *

  • আজ সোমবার, ১৮ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৩ অক্টোবর, ২০২২ ৷

সব জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু আমাদের শ্রমের দাম!

Sherpur News
❏ সোমবার, আগস্ট ২২, ২০২২ ময়মনসিংহ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: সব জিনিসের দাম বাড়ে, আমাদের কাজের দাম তো বাড়ে না। পাথর ভাইংগা যে টেহা মুজুরি পাই, তা দিয়া ছেলে-মেয়ে নাতি লইয়া চলাডা কষ্টের। পেট আছে যে, তাই কাজ করে খাওন লাগে। কথাগুলো আক্ষেপ করে বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরের নারী শ্রমিক ববিতা মাংখিন।

ববিতা মাংখিন। তিনি চিসেন মাংখিন নামে এক নাতিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন বন্দরে। সেও নানীর মতো পাথর ভাঙার শ্রমিকের কাজ করে। ববিতা মাংখিনের স্বামী মারা গেছে কয়েক বছর আগে। সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ে বিবাহিত এবং ৫ সন্তানের জননী। তার মধ্যে একজন চিসেন মাংখিন। ববিতা মাংখিন ও তার নাতির আয়ে চলে সংসার। শুধু ববিতা নয় তার মতো প্রায় তিন হাজার শ্রমিক আছে এখানে। যারা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নিত্য প্রয়োজনীয় বাজারে সাথে তাল না মেলাতে পারলেও কোন রকম খেয়ে না খেয়ে এ কাজ করে যাচ্ছেন।

এ স্থলবন্দরে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক পাথর ভাঙার কাজে জড়িত। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এই কাজ করে একজন মজুরি পান ৩০০ টাকা।

এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাব থাকায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়েই কম মজুরিতেই পাথর ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকেন। তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত তবুও কাজ হারানোর ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

উপজেলার বনকুড়া চৌরাস্তা এলাকার মামুন (৪২) ও সিধুলি গ্রামের রুপচাঁন (৪৫) এখানে পাথর ভাঙার কাজে এসেছেন। তারা জানান, দৈনিক হাজিরা ৩শ টাকা করে পান। যাতায়াত ভাড়া বাবদ ও দুপুরের খাওয়া এবং সাথে চা-পানের পেছনে তাদের ১০০ টাকা খরচ হয়। বাকী ২০০ টাকা দিয়ে কোন রকম টানা পোড়নে সংসার চালাতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের চড়া দামের কারনে এ অল্প টাকায় সংসারের চাহিদা মেটাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

নয়াবিল ইউনিয়নের ডালুকোনা গ্রামের পাথর ভাঙা শ্রমিক জলিল বলেন, ‘সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত লাগাতার পাথর ভাঙার কাজ করি। শুধু দুপুরে একটু সময় পাই খাওয়া ও বিশ্রামের জন্য। প্রতিদিন ৩০০ টাকা মজুরি পেলেও তা দিয়ে সংসার ঠিকমতো চালানো যায় না।’

একই স্থলবন্দরের নারী শ্রমিক আনোয়ারা (৫২) বলেন, সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে মজুরি পাই তা দিয়ে সংসার চালাই।’ তিনি আরো বলেন, প্রতিবাদ করলে যদি কাজে নেওয়া না হয়। তাই কম মজুরি পেলেও প্রতিবাদ করি না।’

স্থলবন্দরের পাথর ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান, শরিফুল ইসলামসহ কয়েক জানান, এ অঞ্চলে শ্রমিকের সংখ্যা চাহিদার চেয়ে বেশি। কাজের জন্য শ্রমিকরাই তাদের কাছে আসেন। কম মজুরিতেই তারা কাজ করতে রাজি হন। অন্য সব ব্যবসায়ী মজুরি বাড়ালে তারাও ন্যায্য মজুরি দেবেন বলে জানান।

নাকুগাও স্থলবন্দরে লোড আনলোড শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র জানায়, এ স্থলবন্দর এলাকায় প্রায় একশোর মতো পাথর ভাঙা মেশিন আছে। প্রতিটি মেশিনে ২০-২৫ জন শ্রমিক পাথর ভাঙেন। এখানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে কার্ডধারী শ্রমিক রয়েছে ৮শ জন। আর দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে প্রায় দুই হাজার জন। কার্ডধারী শ্রমিকের হাজিরা গড়ে ৫০০ টাকা এবং দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে শ্রমিকে পান ৩০০ টাকা করে। প্রত্যেক শ্রমিক প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরি পেলেই ন্যায্য মজুরি হতে পারে বলে জানিয়েছে লোড আনলোড এ শ্রমিক ইউনিয়ন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন মিয়া বলেন, ‘পাথর ভাঙা শ্রমিকরা যেন ন্যায্য মজুরি পান, সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নালিতাবাড়ীর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, ২০১৫ সালে নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা দেওয়ার সময় ভারত থেকে ১৮টি পণ্য আমদানির তালিকাও দেওয়া হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ পণ্যই আমদানিযোগ্য নয়। বন্দরটির কার্যক্রম শুরুর দিকে কয়লা আমদানি করা হলেও দেশটির পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে শুধুই পাথর আমদানি করা হচ্ছে। যদি অন্যান্য পণ্য আমদানির অনুমতি থাকতো, তবে ভারতের মেঘালয় ও পাশের আরেক দেশ ভুটান থেকে অনেক পণ্যই যেমন গম, সুপারি, হলুদ, শুঁটকি ইত্যাদি আমদানি করা যেত। অপরদিকে স্থানীয়ভাবে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হতো। স্থানীয়ভাবে শ্রমিকদের চাহিদা বাড়ত: মজুরীও বাড়ত৷