ভুমিদস্যু চক্রের দখলে ২১ আগষ্ট গ্রেনেট হামলায় আহত বেবী আপার পৈত্রিক ভিটা ও ক্রয়কৃত জমি !

Manikganj News
❏ সোমবার, আগস্ট ২২, ২০২২ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সহচর ২১’আগষ্ট গ্রেনেট হামলায় গুরুতর আহত বেবী আপা ১৮ বছর ধরে গ্রেনেটের স্প্রিন্টার গায়ে বহন করছেন। পদ্মা নদীর তীরবর্তী হরিরামপুর উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের আনিসুর ইসলামের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন চৌধুরী বেবী। যিনি বেবী আপা নামেই পরিচিত।  তিনি বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শ্যামলী ২ নং রোডের ১২ নং বাসায় বসবাস করছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তথা শেখ পরিবারের সাথে রয়েছে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক। তার পরও ভাল নেই বেবী আপা।

স্থানীয় একটি ভুমিদস্যু চক্র তার পৈত্রিক ভিটা ও ক্রয়কৃত জমি জবর দখল করে রেখেছেন। বিষযটি তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। নিরুপায় হয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের।

বেবী আপা জানান, ১৮ বছর ধরে গ্রেনেটের স্প্রিন্টার গায়ে বহন করছি। দুর্বিসহ যন্ত্রণার স্মৃতি মনে পড়লে আজও গা শিহরে উঠে। তিনি বলেন, সেই দিন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে টার্গেট করে কাপুরুষোচিত ভাবে গ্রেনেট হামলা চালিয়েছিল তৎকালীন সরকারের লেলিয়ে দেওয়া জঙ্গীবাহিনী। কিন্তু ভাগ্যবশত তিনি বেঁচে যান।

২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের বেদনা বিঁধুর স্মৃতি আর নিজের সম্পত্তি বেদখলের বর্ননা দিতে গিয়ে তিনি কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গনে আওয়ামীলীগের সমাবেশ চলছিল। একটি ট্রাকের উপর স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন আওয়ামীলীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণ প্রায় শেষের দিকে, এমন সময় প্রচন্ড শব্দে আকাশ বাতাস বাড়ি হয়ে যায়। আমি মাটিতে লুটিয়ে পরি। জ্ঞান ফেরার পর শুনি শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলেও আইভি আপাসহ আমার ২৪ জন রাজনৈতিক সহচর শহীদ হয়েছেন। দেশের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে কমপক্ষে ৩’শ নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছোট বেলা থেকেই আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত হয়ে পড়ি। বর্তমানে আমি মানবেতর জীবন-যাপন করছি। প্রতিবেশী পিপুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের সাড়ে ৯ শতাংশ জায়গা ১০ লক্ষ টাকা মুল্য নির্ধারন পুর্ববক দুই দফায় আড়াই লক্ষ টাকা প্রদান করি। বাকী টাকা দিয়ে উক্ত জায়গাটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা থাকলেও অদ্যাবধি আমি জায়গা বুঝে পাইনি। নিরুপায় এ বিষয়ে আমি মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারী আপিল মামলা রুজু করেছি (মামলা নং-১৩৯/২০১৯)।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সায়েদুর রহমান বলেন, বেবী আপা ও জাহাঙ্গীর সম্পর্কে মামা-ভাগিনী। জাহাঙ্গীর সকলের উপস্তিতিতে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েছেন। বাকী টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার কথা। কিন্তু জাহাঙ্গীরের ওয়ারিশানগন দেই দিচ্ছি বলে
টালবাহানা করছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো বলেন, বেবী আপা আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ। ন্যায় বিচারের আশায় গ্রাম্য সালিসি’র পর আদালতের স্বরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। বর্তমানে সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করছে।