🕓 সংবাদ শিরোনাম

চলতি সপ্তাহেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম * রবির ১৪ জনকে আসামি করে অভিনেত্রী সোহানা সাবার মামলা * ❏ অ্যাম্বুল্যান্সে উঠিয়ে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক চালক * ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ১৭৫ * অনলাইনের আওতায় আসছে সরকারি টিএ-ডিএ বিল * টোল প্লাজায় থানার ওসি ও গাড়িচালকে কুপিয়ে মোবাইল-টাকা ছিনতাই ! * প্রবাসী ছদ্মবেশে যেভাবে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সর্বস্ব লুটে নিতেন অজ্ঞান পার্টি * সবজির হাটে নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাক, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫ * রাতভর ফ্ল্যাটে আটকে কিশোরী ও শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৫ অভিযুক্ত * কুবিতে ছাত্রলীগের দু-পক্ষের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, হল বন্ধের ঘোষণা *

  • আজ রবিবার, ১৭ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২ অক্টোবর, ২০২২ ৷

‘আমি মারা গেলাম কবে?’ বিস্ময় চোখে প্রশ্ন পেংকু মিয়ার…


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০২২ দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, জামালপুর প্রতিনিধি: অভাবের সংসারে বৌ সন্তানের মুখে দু’মুঠো খাবার জোটাতে প্রতিনয়ত জীবন যুদ্ধে দিব্যি বেঁচে থাকা মানুষ তিনি। হুট করেই জানলেন খাতা কলম আর সরকারী নথিতে  দীর্ঘদিন  ধরেই মৃত তিনি।!

ঘটনার আকস্মিকতায় সহজ সরল মানুষটির মুখে বিস্ময়ের ঘোর। অবাক চোখে আশেপাশে থাকা সব মানুষের কাছে তার প্রশ্ন,  ‘আমি মারা গেলাম কবে? আমি তো মরি নাই।’

‘জীবিত’ থেকেও ‘মৃত’! হবার এমন ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে। ঘটনার শিকার, দিনমজুর মো. ফজলুল হক পেংকু মিয়া ! তিনি গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতের চর শাহপাড়া গ্রামের মৃত নজু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারি বরাদ্দের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গতকাল সোমবার ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে অনলাইনে আবেদন করতে যান ফজলুল হক পেংকু মিয়া । আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তিনি ‘মৃত’।

ভুক্তভোগী ফজলুল হক পেংকু মিয়া বলেন, ‘সরকারি চালের কার্ডের জন্য আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারি আমি নাকি মারা গেছি! আমার আবেদন করার সুযোগ নেই। পরে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব ফিরোজ আমাকে জানান, ভোটার তালিকায় আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন করতে বলেন। আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।’

বিস্ময়ের চোখে ফজলুল হক পেংকু মিয়ার  প্রশ্ন, ‘আমি মারা গেলাম কবে? আমি তো মরি নাই।’ তিনি জানান, মৃত অবস্থার অবসান ঘটাতে জীবিত থেকেও নতুনভাবে ‘জীবিত’ প্রমাণ করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এর জন্য তথ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসসহ নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত যেতে হচ্ছে তাঁকে। কিন্তু সমাধান সহজে পাচ্ছেন না তিনি।

রেকর্ডপত্রে ফজলুল হক পেংকু ‘মৃত’ থাকায় ‘জীবিত’ হওয়াটা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ এটির ওপর নির্ভর করছে বেশ কিছু মৌলিক বিষয়। সম্পত্তি রক্ষা, ওয়ারিশ ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ অনেক কিছু।

ভোটার তালিকায় দেখা যায়, জীবিত ফজলুল হক পেংকু ভোটার তালিকায় মৃত! তাঁর জন্ম তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ। ভোটার তালিকায় মৃত থাকায় তিনি সরকারি ভাতার জন্য আবেদন করতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালে ভোটার তথ্য হালনাগাদের সময় ভুল তথ্য দিয়ে ওই ব্যক্তিদের মৃত দেখান তথ্য সংগ্রহকারীরা। আর তা যাচাইবাছাই ছাড়াই তাতে স্বাক্ষর করেন ভোটার তথ্য হালনাগাদে দায়িত্বে থাকা শনাক্তকারী ও সুপারভাইজাররা।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব সৈয়দ ফিরোজুল আলম ফিরোজ সময়ের কণ্ঠস্বর’কে বলেন, ‘ভোটার হালনাগাদ করার সময় ওই ব্যক্তিকে ভুলক্রমে মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি আবেদন করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর জীবিত থাকার প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেটা সংশোধন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বর’কে বলেন, জীবিত ফজলুল হক পেংকুকে ভোটার তালিকায় ভুলক্রমে মৃত দেখানো হয়েছে। তিনি আবেদন করলে সংশোধন করে দেওয়া হবে।