মির্জাপুরে নতুন নির্দেশনা মানছেন না সরকারি কর্মকর্তারা!

Tangail news
❏ বুধবার, আগস্ট ২৪, ২০২২ ঢাকা

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: সরকারি নিয়মের প্রথম দিনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। তবে সময় মতো কর্মকর্তারা উপস্থিত না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

বুধবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলা দপ্তরগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘড়ির কাটায় যখন আটটা বেজে ত্রিশ মিনিট তখন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অফিসের সহকারীরা থাকলেও কর্মকর্তা নিজেই অনুপস্থিত ছিলেন। ওই দপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বাবুল জানান, স্যার এখনো অফিসে আসেনি, কিছুক্ষণের মধ্যে পৌছে যাবে। অনুপস্থিতির কারণ জানতে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রওশনআরা বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবার পরিকল্পনা (পঃপঃ) কার্যালয়ে গিয়েও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। অফিস খোলা থাকলেও পঃপঃ কর্মকর্তার রুম ফাঁকা দেখা যায়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো. আরিফ হোসেন জানান, এখনো সে বাসায় আছেন।

অফিসে আসেননি কেনো প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি ঘাটাইল উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি, তাই একটু দেরি হচ্ছে।

একই দপ্তরের মেডিকেল অফিসার সোহেলী শারমিন, অফিস সহকারী বিউটি আক্তার, টিএফপি মো. মফিজ উদ্দিন অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও পরে আসার পর সাংবাদিকদের কথা শুনে তারা বিভিন্নভাবে তদবির চালায়।

সকাল আটটা ৫০ মিনিটে গিয়ে মির্জাপুর সদর (পৌরসভা) ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। বেলা গড়িয়ে নয়টা বাজার পরই হঠাৎ একজন মহিলার উপস্থিতি। কাছে এসে বললো কি হয়েছে, কাকে চাচ্ছেন। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই তিনি দ্রুত চাবি দিয়ে অফিসের তালা খুলতে শুরু করেন।

জানা যায়, ওই অফিসে অফিস সহায়ক ও আয়া পদ শূন্য থাকায় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা হাসিনা আক্তার নিজেই অফিস খুলেন। জানতে চাইলে বলেন, নতুন নিয়ম করা হলেও কোনো কর্মকর্তাই এখন পর্যন্ত অফিসে আসেননি। কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সমর চন্দ্র কর্মকারের সাথে যোগাযোগে তিনি বলেন, আমি অফিসে আসতেছি। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোকসানা আক্তার টাঙ্গাইলে দাপ্তরিক এক প্রশিক্ষণে আছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জারিকৃত চিঠি মির্জাপুরে সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যদি কেউ যথাসময়ে অফিস নিয়মিত না করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।