মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের জোর করে শ্রম আদায় ইস্যুতে কঠোর হুশিয়ারি

Malaysia news
❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২ প্রবাসের কথা

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়ায় স্থানীয় অথবা অভিবাসী শ্রমিক কর্মচারীদের ভয় ভাীতি প্রদর্শন করে, জোর করে অথবা জিম্মি করে কোন শ্রম আদায় করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান। তাছাড়াও দেশটিতে প্রচলিত শ্রম আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্টদের আর ক্ষমা করা হবে না বলে তিনি জানান।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মানব সম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার এক মেইড (গৃহকর্মী) কে নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঐ গৃহ কর্মী কুয়ালালামপুরের বাতু কেভস্ এলাকায় কাজ করতো। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে তাকে ২০১৯ সাল থেকে জোর করে জিম্মি করে কাজ করানো হচ্ছে এমন কি তার পাওনা ৩২ হাজার রিংগিত এর এক টাকাও পরিশোধ করা হয়নি বলে তদন্তে এর সত্যতা মিলেছে।

দেশটিতে জোর করে, জিম্মি করে শ্রম আদায় এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের ইতিহাস অনেক পূরনো। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র মলয়েশিয়ার কয়েকটি পন্য রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন। তবে স্থানীয় কর্মীদের চেয়ে বিদেশী কর্মীদের পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তারা উদাসীন। তাদের সাথে অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করা সহবেতন আটকে রাখারা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে থাকা খাওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়ে থাকে।

তবে এই অভিযোগ অত্যন্ত পুরানো হলেও সরকার কর্তৃক নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও খুব কম যা উল্লেখ্য যোগ নয়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলসহ জাতিসংঘের চাপ রয়েছে দেশটির প্রতি। শ্রমিকদের প্রতি মানবিক আচরণ করা সহ শ্রম আইন মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে পরিদর্শন ও অভিবাসী কর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলে জানা গেছে, মালয়েশিয়াতে ২ ধরনের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ পাওয়া । এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয়ানক দেশটিতে ইন্ডিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিকদের বিরুদ্ধে যারা শত শত বছর আগে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এর পরে রয়েছে দেশটিতে বাংলদেশি নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কিছু বাংলাদেশি রয়েছেন মালয়েশিয়ান নারী বিয়ে করে নাগরিকত্ব পেয়ে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করেন। তাদের হাতেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হন। ভোক্তভোগীরা কোথাও অভিযোগ করার সুযোগ পান না। আর অভিযোগ করলেও এর সঠিক বিচার পাবে না এই হতাশায় অভিযোগও করেন না।

দেশটিতে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক কাজ করা যায় যেসব কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা চায়নিজ। চায়না জাতিগোষ্ঠী অত্যন্ত ভদ্র ও সুশৃঙ্খল জীবন করে এবং একটি প্রতিষ্ঠানকেও তারা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে। কুয়ালালামপুর কয়েকজন কমিউনিটির নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে মালয়েশিয়ায় অধিকাংশ ব্যবসা বাণিজ্য, শিল্প কারখানা, নির্মাণ সেক্টর চীনা জনগোষ্ঠীর অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। চীনাদের অধীনে শ্রমিকরা কাজ করলে বেতন ভাতাসহ অন্যন্যা প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা যথা সময়ে পেয়ে যান।