খোদা আমাকে এমপি বানিয়েছে, আপনারা না


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ প্রধান খবর

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি খোদা আমাকে এমপি বানিয়েছে, আপনারা না। কথা সত্য না মিথ্যা? পেছনের মানুষগুলো কি বোবা? আমি প্রত্যেকটা মানুষের জবাব চাই। আমাকে আপনারা ভোট দেন নাই। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসি নাই।’

ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

গত শনিবার বিকেলে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কালিয়াপাড়া বাজারে ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে এমপিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘জবাব চাই, আপনাদের কাছে। জবাব মুখে দিতে হবে, পারবেন না দিতে? ভালো না লাগলে সোজা চলে যাবেন, উল্টো দিকে। আমার কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু আমি যা কথা বলব, প্রশ্ন করব, জবাব আপনাদের দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি খোদা যখন আমাকে এমপি বানাল তখন আমার সঙ্গে যিনি ছিলেন, তিনি আমার সমপর্যায়ের মানুষ ছিলেন না। তিনি অনেক বড় মানুষ ছিলেন। উনি দেখতে সুন্দর, আমার চেয়ে দুই, তিন, পাঁচ, ছয় ইঞ্চি লম্বা ছিলেন। এ দেশের মানুষ কি তখন ভেবেছিল- জেনারেল সাহেবের (সাবেক মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম) হঠাৎ করে বিদায় হবে আর তুহিনের হঠাৎ করে নান্দাইলে আগমন হবে?’

এমপি তুহিন দাবি করেন, নান্দাইলের মানুষ যখন অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল, আলেম সমাজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারত না, নর্তকীর নাচের আওয়াজে মসজিদে ফজরের আজান দিতে পারত না- ঠিক তেমনি এক মুহূর্তে সাবেক সাংসদ মেজর জেনারেল আব্দুস সালামকে জব্দ করেন খোদা।

সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু বকর ছিদ্দিক বাহার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর ছিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আজিজুল ইসলাম, স্থানীয় চেয়ারম্যান মোছা. তাসলিমা আক্তার, যুবলীগ নেতা মো. শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে এমপি তুহিন এ ধরনের বক্তব্য দেননি দাবি করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল বলেন, ‘একটি পক্ষ ভিডিও সুপার এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

এমন বক্তব্যের বিষয়ে সোমবার বিকেলে এমপি তুহিন বলেন, ‘এমন কোনো কথা আমি বলিনি। আমাদের বিপক্ষের লোকজন ভিডিওতে সুপার এডিট করে ওই বক্তব্য যুক্ত করছে। এগুলো পাত্তা দিয়েন না।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।