🕓 সংবাদ শিরোনাম

হেলিকপ্টারে নামাজ আদায় করলেন ইমরান খান * হবিগঞ্জের মাধবপুরে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুইজন নিহত * মধুর সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই সন্তানকে খাওয়ানোর পর আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের * অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে গুলশানের স্পা সেন্টার থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার * রোববার পর্যন্ত ইরানে হিজাববিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৯২ * নিজের মেয়েকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যেভাবে নাটক সাজায় বাবা! * কান্নাকাটি করায় বিরক্ত হয়ে ৩৫ দিনের শিশু কন্যাকে পুকুরে ফেলে দেন মা ! * তৃতীয়বারের মতো প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, দুজনকেই শ্রীঘরে নিলো পুলিশ * বন্দরে মিশুক চালক কায়েস’র লাশ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ৩ * মঙ্গলবার দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী *

  • আজ সোমবার, ১৮ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৩ অক্টোবর, ২০২২ ৷

আমাগো চিন্তা করার মতো কেউই নাই

Dhaka news
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২ ঢাকা

রাজু আহমেদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: সেই কাক ডাকা ভোর থেইকা বাসায় বাসায় গিয়া ময়লা সংগ্রহ করি। ভ্যানে তুইলা সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিনে ফেইলা সারাদিন ময়লা আবর্জনার মধ্যেই কাজকাম করি। আমাগোও যেকোনো সময় যে-কোনো অসুখ বিসুখ হইতে পারে। আমাগোও তো পরিবার আছে। মইরা গেলে কান্নাকাটি করার মানুষও আছে। কিন্তু আমাগো নিয়া চিন্তা করার মতো কেউই নাই। পরিচ্ছন্নতা কর্মী হইলেও আমরাও তো মানুষ। তয় সমাজের নিচু জাতের মানুষ। আমাগো খোঁজখবর লইয়াই বা কি হইবো? তাই কেউই আমাগো খোঁজখবর লয়না। কিন্ত আমি যে আপনারে এইসব কথা কইলাম- পেপার- পত্রিকায় আমার নাম আইলে আমার চাকরি না-ও থাকবার পারে। দয়া কইরা আমার নাম খবরের কাগজে লেইখেন না।

সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুরের আনছার ক্যাম্পের বীপরীতে টোলারবাগে অবস্থিত সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিনে (এসটিএস) গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সেখানে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের খোঁজ-খবর জানতে চাইলে এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করে কথা গুলো বলছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

রাজধানীর প্রতিটি বাসাবাড়িতে এক শ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়তই প্রবেশ করছে বাধাহীনভাবে । ঘুরে বেড়াচ্ছে পুরো রাজধানী জুড়ে। মিশছে অনেকের সাথে। তারা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী। নগরীর বাসাবাড়ির গৃহস্থালির উচ্ছিষ্ট থেকে শুরু করে সকল ময়লা আবর্জনা পরিস্কারে নিয়োজিত তারা। ফলে তারা প্রতিনিয়তই থাকেন সাস্থ্য ঝুঁকিতে। কিন্ত কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নজরদারীর অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন তারা।

শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে একজন পরিচ্ছন্ন কর্মীকে কাজে যেতে হয় ভোর ৫টায়, ছুটি বিকেল ৫টায়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মহানগরীতে প্রায় ৮ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করেন। কেউ বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যান নির্ধারিত স্থানে। কেউবা সিটি কর্পোরেশনের রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে গড়িতে তোলা তার কাজ করেন। তারাও যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন রোগব্যাধিতে।

এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন,আমরা যারা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করি, তাদের জন্যে সরকার আলাদা নিরাপত্তাজণিত পোশাক,হ্যান্ডগ্লোবস ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দেয় সরকার। কিন্ত সেগুলো আমাদের পর্যন্ত পৌছায়না। সিটি করপোরেশনের কর্তারা সেগুলো কি করেন তারাই জানেন।

নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরো একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন,গত দীর্ঘ দুই বছরে করোনা মহামারী চলাকালে এত বড় দূর্যোগেও আমাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সিটি করপোরেশন কিংবা কোন জনপ্রতিনিধি। দেওয়া হয়নি কোনো নিরাপত্তা জণিত পোশাক। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তখনই অধিকাংশ পরিচ্ছন্ন কর্মীই মাস্ক পাননি- পড়েননি। এখন তো দেশের অবস্থা স্বাভাবিক। মাস্ক- হ্যান্ড গ্লাভস দেওয়া কিংবা ব্যবহার করার তো প্রশ্নই ওঠে না। আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারিনা। প্রতিবাদ করলে হয়তো চাকরি থাকবেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো একজন নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন,ময়লা আবর্জনায় কাজকাম করার সময় প্রায় প্রায়ই ময়লা আবর্জনার ভেতরে থাকা কাঁচের টুকরা,লোহা, আলপিন,ধারালো নানা রকম জিনিসপত্রে আঘাতে আমাগো হাত-পা কাইটা যায়। ময়লা আবর্জনায় কাজকাম শেষ কইরা হাত-পায়ের ময়লা পরিস্কার করতে একটা সাবানও দেওয়া হয়না। অনেক সময় ডাস্টবিনে হাত ধোয়ার পানিও থাকেনা। কি করমু? অন্য কোনো উপায়ও তো নাই। লেখাপড়া করি নাই। অন্য কোথাও ভালো কাজকর্ম কইরা খামু সেই জোঁ-ও নাই। কত কষ্টে আমরা দিন কাটাই তা খালি আল্লাহ মালিকই জানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন, রোগবালাইয়ের কথা তো কওন যায় না। আমাগো বাসায়ও তো বাচ্চা পোলামাইয়া আছে। আমাগো মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ-বলাই আমাগো বাসা-বাড়িতেও ঢুকতে পারে। এমনকি আমাগো মাধ্যমেই আমরা যেসকল বাসা বাড়িতে ময়লা আনতে যাই;সেই সব বাসা-বাড়িতেও তো ঢুকতে পারে করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি। তাই সেই দিকে একটু নজর দিয়া আমাগো উপরের স্যারেরা আমাগো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে দরকারী ব্যবস্থা নিলে খুবই ভালো হইতো।

‘মহানগরীর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এবং মহানগরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে;তাদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব কে নেবে’ এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির স্থানীয় ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুরাদ হোসেন বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত না। তাছাড়া ডিএনসিসির ১২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রয়োজনে নানা ব্যবস্থা গ্রহণে আমি প্রায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এবিষয়ে আমি অবশ্যই খোঁজ খবর নেবো। সত্যতা পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যা যা করণীয় সেটি করার চেষ্টা করবো।

এবিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর শরিফ-উল ইসলাম বলেন, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাঝে মাস্ক ও গ্লাভস বিতরণ করা হয়েছে। বাকিদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক সব সংস্থাগুলোকে গৃহস্থালী বর্জ্য সংগ্রহের সময় মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংগঠনগুলো বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিটি বাড়ি থেকে অর্থ নিয়ে থাকে। তারপরেও, তারা কেন পরিচ্ছন্নকর্মীদের সুরক্ষার জন্য মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস সরবরাহ করবে না। এটি কঠোরভাবে মেনে চলতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।