• আজ বুধবার, ১৩ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পুঠিয়ার পৌর মেয়র গ্রেপ্তার


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ, রাজশাহী

রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়ার পৌর মেয়র ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন কে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পর থেকেই পুঠিয়ার পৌর মেয়র পলাতক ছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে বরগুনা জেলা থেকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুঠিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) জাহাঙ্গীর আলম পৌর মেয়র আল মামুনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে- রাজশাহী কলেজের ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী গত বছর স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে তিনি ডিভোর্সের জন্য মেয়রের সাথে দেখা করেন। সেই সাথে পৌরসভায় একটি চাকরির জন্য আবেদন জানায়। সেই সূত্র ধরে মেয়র মামুন তার দায়িত্ব নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ভুক্তভোগী তরুণীকে পৌর মেয়র ধর্ষণ করে বলে গত ৪ সেপ্টেম্বর পুঠিয়া থানায় দায়ের করা এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী বলেন,‘সম্প্রতি মেয়র আমাকে চাকুরি কিংবা বিয়ে কোনোটিই করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এই নিয়ে আমি প্রতিবাদ করলে তার (মেয়র) সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তার বিরুদ্ধে থানায় একটি এজাহার দাখিল করি। সেই মামলা সে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে শুনেছি। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ‘সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ভুক্তভোগী নারীকে পৌর মেয়র ধর্ষণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন। তাই ভুক্তভোগীর স্বাস্থ পরীক্ষার জন্য রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি। আর গ্রেপ্তারকৃত পৌর মেয়রকে বরগুনা থেকে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ বুধবার বিকালের মধ্যেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর কথা রয়েছে।’

এ বিষয়ে পুঠিয়ার পৌর মেয়র আল মামুন খানের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘আমি তার মামলা বিষয়ে কিছু জানি না। এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্যও করতে চাচ্ছি না।’
উল্লেখ্য, গত বছরের শুরুতে দুর্গাপুরের বাসিন্দা এক হাসপাতালের সেবিকা মেয়র মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছিলেন। অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, সেই মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনরা সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন