• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

শোকে স্তব্ধ মাটিকোড়া গ্রাম, বজ্রপাতে নিহত ৯ জনের দাফন সম্পন্ন


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২ প্রধান খবর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দুই গ্রামে বজ্রপাতে একই পরিবারের ছয়জনসহ নিহত ৯ জনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে মাতম। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শিবপুরে পাঁচজন ও মাটিকোড়ায় চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে ৯ জন মারা যাওয়ার ঘটনায় শিবপুর গ্রাম এখন শোকে নিস্তব্ধ। এর মধ্যে একই পরিবারের মারা গেছেন ৫ জন। স্বামী, সন্তান, দেবর, মেয়ে জামাতা ও নাতিকে হারিয়ে শোকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন শিবপুর গ্রামের শান্তি খাতুন। তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

শোকাবহ সেই শিবপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বজ্রপাতে নিহত হওয়া শমসের আলীর স্ত্রী শান্তি খাতুন। বজ্রপাতে শুধু স্বামীই নয় ছেলে শাহীন, মেয়ের জামাই মোকাম হোসেন, নাতি মোন্নাফ হোসেন ও দেবর আফসার আলীকেও হারিয়েছেন এই নারী। একই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন এই বৃদ্ধার আরেক সন্তান।

একই পরিবারের ছয় জন নিহত হওয়া হৃদয় বিদারক ঘটনায় গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারী পুরুষ ছুটে আসছে সমবেদনা জানাতে। তারাও চোখের পানি ফেলছেন। শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম।

একই অবস্থা মাটিকোড়া গ্রামেও।এই গ্রামেরও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে বজ্রপাতে। নিহতদের লাশ দাফন করা হয়েছে রাতেই। নিহতদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে শোক। এই গ্রামের নিহতরা হলো আব্দুল কুদ্দুস, শাহ আলম, রিতু খাতুন ও জান্নাতী খাতুন।

শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা সোলেমান হোসেন বলেন, ‘শমসেরের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। এদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা জানা নেই। আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। এই পরিবারটা এখন এতই অসহায় হয়ে দাঁড়াল, তাদের আর কাজ করে পরিবার চালানোর কেউ রইল না। পরিবারটি পুরুষশূন্য হয়ে গেল।’

এদিকে নিহত দুটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও করেছেন এই সংসদ সদস্য। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশি ইউনিয়নের মাটিকোড়া গ্রামে ধানের বীজ সংগ্রহ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হয় একই পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জন। আহত হয় আরও অন্তত ছয়জন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুই শিশুসহ আরও তিনজন মারা যায়।