মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরশায়িত হলে আকবর আলি খান


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানকে।

শুক্রবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতির মধ্যে দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত অংশে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে বাদ জুমা গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের জন্য তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে গুলশানের বাসার নিচে আকবর আলি খানের মরদেহ রাখা হয়। সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্খি ও বিশিষ্টজনরা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, ড. আকবর আলি খানের মৃত্যুতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানাজায় অংশগ্রহণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

জানাজায় অংশ নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও তিনি স্বাক্ষর করেছেন; বলেছেন ইভিএম করবেন না। সত্য বলতে তিনি ভয় পাননি।’

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ড. আকবর আলি খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

আকবর আলী খান ১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি হবিগঞ্জের মহুকুমা প্রশাসক বা এসডিও ছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সক্রিয়ভাবে মুজিবনগর সরকারের সাথে কাজ করেন।

২০০৬ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তিনজন উপদেষ্টার সাথে একযোগে পদত্যাগ করেন।

মেধাবী শিক্ষার্থী আকবর আলী খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যয়ন করেন এবং সেখান ১৯৬৪ সালে সম্মান ও ১৯৬৫ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন দুটিতেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে তিনি লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭০ সালে হবিগঞ্জ মহুকুমার এস. ডি. ও. হিসেবে পদস্থ হন।

যুদ্ধ শুরুর আগের অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সমর্থন দেন। পাকিস্তান বাহিনীর আক্রমণ শুরু হলে হবিগঞ্জ পুলিশের অস্ত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেন।

১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সচিবালয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।

অল্প সময়ের জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে কাজ করে ১৯৯৩ এ সরকারের সচিব হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেন আকবর আলী খান। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অর্থ সচিব হিসাবে পদস্থ হন। ২০০১ সালে তিনি বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে বিকল্প কার্যনির্বাহী পরিচালক (অল্টারনেটিভ এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর) পদে যোগদান করেন। বিশ্ব ব্যাংকে তিনি ২০০২ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাজ করেন।

বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের বিকাশ নিয়ে তার ‘হিস্টোরি অব বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ বইটি খুব বিখ্যাত। এছাড়া, অর্থনীতি, সাহিত্যসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।