🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ১৩ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

আ.লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলা: কারাগারে আরও এক আসামির মৃত্যু


❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২ ঢাকা, দেশের খবর

তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আরও এক আসামির কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আসামীর নাম মো. সমীর (৪২)। তিনি শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ফারুক হত্যা মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে ছিলেন।

জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, রাত পৌনে ৯ টার দিকে সমীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে। পরে কারা চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক তাকে জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নীরিক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হৃদরোগ জনিত সমস্যার কারণে ইতোপূর্বে একাধিকবার চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। শনিবার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ যথানিয়মে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ফারুক আহমদ হত্যা মামলার আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা (৪২) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ। আনিসুল টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলাম মোতালেবের ছেলে।

২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজাকে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে। দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনিসুল ওই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। রাজার স্বীকারোক্তিতেই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ তার ভাইদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর থেকে তিনি টাঙ্গাইল কারাগারে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

আদালতে দেওয়া ওই দুজনের স্বীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।

২০১৬ সালে ফেব্রুুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ এই চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এ সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। তিন বছরের বেশি সময় হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। তাঁদের অপর দুই ভাই জাহিদুর ও সানিয়াত এখনো পলাতক।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন