ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

Cox's Bazar news
❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২ চট্টগ্রাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১০সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মলন করে এ অভিযোগ উপস্থাপন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এতে দখলীয় জমি উদ্ধার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন পরিবারটি।

সংখ্যালঘু পরিবারের পক্ষে দীপন বড়ুয়া দালিলিক তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, উখিয়া মৌজার বিএস ৭০৪নং খতিয়ানের ৭০১৪, ৭০০৫, ৭০১৬নম্বর দাগের ১৪ শতক জমি হতে ৭ শতক পৈত্রিক জমি হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পিতা মৃত বখতিয়ার মেম্বারকে ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে ৫বছরের জন্য ভাড়ায় লাগিয়ত দেয়া হয়। বাৎসরিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১৭ হাজার টাকা। আমাদের জমিতে ৩৫টি মতো দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বখতিয়ার মেম্বার। চুক্তির পর হতে ২০২০ সালে বখতিয়ার মেম্বার মারা যাবার আগ পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি (বখতিয়ার) মারা যাবার পর জমির ভাড়া দিতে অস্বীকার করেন বখতিয়ারের ছেলে বর্তমান মেম্বার হেলাল উদ্দিন।

তিনি আরো বলেন, আগে থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প এবং ২০১৭ সালে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢলের পর কুতুপালং এলাকার জমির কদর বাড়ে। ক্যাম্প ও স্থানীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকায় ব্যবসার পরিধি বাড়াতে কুতুপালং বাজার এলাকার সকল জমি বৈধ-অবৈধ ভাবে নিজেদের দখলে নেয় বখতিয়ার মেম্বার। বাবার মৃত্যুর পর ছেলে হেলাল মেম্বার ‘দখল সাম্রাজ্য’ নিয়ন্ত্রণে নেন। আমরা জমির খাজনা চাওয়ায় পা কেটে নেয়াসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়। প্রশাসনের সাথে সখ্যতা থাকায় আগেও আমাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে জেল খাটিয়েছেন। এখন জমি ফেরত নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন হেলাল মেম্বার। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষের চেষ্টা করেও হেলাল মেম্বারের অসহযোগিতায় সমাধান হয়নি। বরং হেলাল মেম্বার তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আবারো ইয়াবা দিয়ে কারাগারে পাঠানো পরিকল্পনা করছেন বলে জানতে পেরেছি।

আমাদের পরিবারের জমি উদ্ধার এবং সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও সুরাহা পায়নি। সংখ্যালঘু বলে হয়তো আমরা আজ নিগৃহীত। প্রশাসন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে মৃত রাজেন্দ্র বড়ুয়ার স্ত্রী বাণী বড়ুয়া, ছেলে মিলন বড়ুয়া ও কানন বড়ুয়াও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে কুতুপালং এলাকার মেম্বার হেলাল উদ্দিন বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে দীপন বড়ুয়ার পরিবারকে জমির লাগিয়ত দিয়েছেন দেখেছি। কিন্তু বাবা মারা যাবার পর তারা জমির লাগিয়তের জন্য এলে তহশিল অফিসে তল্লাশী দিয়ে দেখি বাজারস্থ দীপনদের সেই জমি তিনটি দলিলের রেফারেন্সে ২০১৪ সালে আমার বাবা বখতিয়ারের নামে খতিয়ান হয়েছে। কাগজ-পত্রে আমাদের মালিকানা থাকায় তাকে আর ভাড়া দেয়া হয়নি।

২০১৪ সালে বখতিয়ার মেম্বারের নামে মালিকানা সৃষ্টি হলে ২০২০ সালেও কেন দীপন বড়ুয়ারা লাগিয়ত পেয়েছেন? এমন প্রশ্নে অভিযুক্ত হেলাল মেম্বার বলেন- সেটা আমি বলতে পারবো না। এখন দীপন বড়ুয়ারা জমির মালিকানা চাইলে আইনী প্রক্রিয়ায় খতিয়ান সংশোধন করে আসুক।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কুতুপালং বাজারে জমির দখল নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ও তার ভাইয়ের নামে দীপন বড়ুয়া নামের একজন অভিযোগ দিয়েছেন। তা একজন অফিসারকে তদন্তে দেয়া হয়। জমির মালাকানা নিয়ে ডকুমেন্টারি বিষয় থাকায় আমরা উভয় পক্ষকে আদালতের স্মরণাপন্ন হবার নির্দেশনা দিয়েছি।