আবারও এক কোটি কার্ডধারী পরিবারে বিক্রি শুরু টিসিবির পণ্য


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: আবারও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সারাদেশে এক কোটি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবি এসব পণ্য বিক্রি করছে।

রবিবার দক্ষিণ বেগুনবাড়ি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, সরকার এক কোটি দরিদ্র মানুষের মধ্যে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সরবরাহ করছে। সামনে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।সরকার ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ভর্তুকি দিয়ে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আজ একযোগে ৩২টি জেলায় এই কার্যক্রম চলবে। তবে সব জেলায় তিনটি পণ্যের একটি প্যাকেজ না পৌঁছালে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এক সপ্তাহের মধ্যেই সব জেলায় পণ্য পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি।

এসময় তিনি টিসিবির বিক্রয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ডিলার এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডে এক কোটি মানুষের বিপরীতে প্রায় চার কোটি মানুষ সুবিধা ভোগ করবেন বলে জানান তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি প্রায় সব পরিবারেই চার জন বা তার বেশি সদস্য রয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম আলী আহাদ খান, পিএসসি চেয়ারম্যান ট্রডিং কর্পোরেশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ সফিউল্লাহ (সফি)।

টিসিবির এই কার্যক্রমে এবার ফ্যামিলি কার্ডধারী একজন ক্রেতা ৪০৫ টাকার বিমিময়ে ৫৫ টাকা দরে এক কেজি চিনি, ৬৫ টাকা দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি ডাল, ১১০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন।

টিসিবি থেকে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়ে তপন কান্তি বলেন, বাজারে পেঁয়াজের সংকট আপাতত নেই। আর পেঁয়াজ বেশি আমদানি করে রাখা যায় না। পেঁয়াজ খুবই পচনশীল পণ্য। ১০ দিন রাখলেই পচে যায়। পচা পেঁয়াজ দিলে তখন সরকারের বদনাম হবে। তাই পেঁয়াজ সংকট হলেই শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে।’

বাজারে পণ্যের দাম কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেড়েছে। সরকার চেষ্টা করছে। যখনই সুযোগ হবে সরকার দাম কমাবে।

সারাদেশে প্রতি ওয়ার্ডে ১ হাজার জন কার্ডধারীর মাঝে টিসিবির এই পণ্য বিক্রি চলবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এভাবে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলতে থাকবে।

সারাদেশে পরিবার কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষদের পণ্য নিতে যেতে হবে নির্ধারিত পরিবেশক দোকানে। এখন টিসিবি ট্রাকে বিক্রি বাদ দিয়ে সারা দেশে নিয়োগকৃত পরিবেশকদের মাধ্যমেই পণ্য বিক্রি করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় সরকার টিসিবির ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

এখন সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিবেশকের দোকান থেকে নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী পণ্য পাবেন গ্রাহকেরা। এতে ক্রেতাদের ভোগান্তিও কমেছে।