রেমিট্যান্স প্রেরকরা ডলার প্রতি পাবেন সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: এবার দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক দরে ডলার কেনাবেচায় সম্মত হয়েছে। প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) আনতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৮ টাকা, আর রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে ৯৯ টাকায়। সব ব্যাংকে ডলারের এই দর কার্যকর হচ্ছে আজ সোমবার থেকে।

আর আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে প্রবাস আয় ও রপ্তানি আয়ের বিনিময় হারের গড় করে।

প্রবাস আয় আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচ হবে ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকদের কাছে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকগুলোরে এই সিদ্ধান্তের ফলে এলসি সেটলমেন্টের জন্য ডলার বিক্রি হবে ১০৪ টাকা ৫০ পয়সায়। এতে কিছুটা হলেও আমদানিকারকদের খরচ কমবে এবং ছোট ও বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নিল ব্যাংকগুলো।

রাজধানীর মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন এবং বাফেদা চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন।

তারা জানান, ঘোষিত দরের বাইরে কোনো ব্যাংক ডলার বেচাকেনা করছে কী না তা তদারক করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আবার দর পরিবর্তন করা হবে। ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ দর ঠিক করে দেওয়ার এই ব্যবস্থা কার্যকরে সব ব্যাংক সম্মত বলে তারা জানান।

গত বৃহস্পতিবার ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সভাপতিত্বে বাফেদা ও এবিবির নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত ১৪ আগস্ট গভর্নরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডলার কেনা ও বিক্রির মধ্যে সর্বোচ্চ এক টাকা পার্থক্যের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এতোদিন তা কার্যকর না করার কারণ জানতে চাওয়া হয় বৃহস্পতিবারের বৈঠকে।

তখন ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে তারা একটি সিদ্ধান্ত নেবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বৈঠক শেষ করে ওই দিনই বাফেদার নেতারা সোনালী ব্যাংকে গিয়ে বৈঠক করেন।