মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর বিয়ের কথা বলে ডেকে এনে প্রেমিকাকে ধর্ষণ: গ্রেফতার ২

Panchagar news
❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ রংপুর

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের সূত্র ধরে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ডেকে এনে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রেমিকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বোদা উপজেলায়।

এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন, বোদা উপজেলার সিপাহীপাড়া গ্রামের মহিদুলের ছেলে প্রধান আসামী প্রেমিক আব্দুল মালেক (২৪) ও বামনপাড়া গ্রামের শাসুদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (২২), প্রসাদ খাওয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে আপন (২৫) ও মকবুল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩০) পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে আব্দুল মালেক ও প্রেমিক আলমগীর হোসেনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মাস আগে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও মগরাপাড়া এলাকায় ওয়াইফাই কল সেন্টারে চাকরি করা অবস্থায় মোবাইল ফোনে ওই কিশোরীর পরিচয় হয় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আব্দুল মালেকের সাথে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে মালেক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পঞ্চগড়ে আসতে বলে। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়নগঞ্জ থেকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় আসে ভুক্তভোগী কিশোরী। এ সময় প্রেমিক মালেক আসামী আলমগীরের ইজিবাইক করে প্রসাদ খাওয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার (৬৫) নামে এক নানার বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় প্রতারক প্রেমিকের বন্ধুরা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। বাড়িতে অন্য কেও না থাকায় বিষয়টি সন্দেহ হয়। সে নারায়নগঞ্জ ফিরে যাবে বলে বের হয়ে যায়। এর মাঝে প্রেমিক মালেক আপন ও আশরাফুলকে কাজীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি আম বাগানে গেলে প্রমিকসহ অপর ৩ জন কিশোরীর হাত-মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে।

একপর্যায়ে কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে প্রমিকসহ ধর্ষকেরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোদা থানা পুলিশকে অবহিত করে। শুক্রবার রাতেই এজাহার দায়ের করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী কিশোরী।

আজ সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় বলেন, প্রেমিক ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।