দেশের ৮ বিভাগেই ঢাকার মানের উন্নত হাসপাতাল করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ প্রধান খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: দেশের আট বিভাগেই ঢাকার মানের উন্নত হাসপাতাল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়াম হলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৪টি শেখ রাসেল স্ক্যানু (বিশেষায়িত নবজাতক সেবাকেন্দ্র) উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘ঢাকার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা শহরের হাসপাতাল সেবা ব্যবস্থা মনিটরিং (পর্যবেক্ষণ) করার জন্য মন্ত্রণালয়ে দুটি টিম করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে প্রতিটি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ঢাকার মানের উন্নত হাসপাতাল দেশের আট বিভাগেই করা হচ্ছে। এতে ঢাকার ওপর চাপ কমবে। এর সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এমনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে যে, এটি বাস্তবায়ন করার পর এই হাসপাতাল হবে সবচেয়ে বেশি রোগীর উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভালো ও আদর্শ চিকিৎসা কেন্দ্র।’

ফ্লোরে চিকিৎসা সেবা দেওয়া খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে ফ্লোরেও চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। সেবার বিষয়টি ঠিক থাকলেও এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি আর হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের মানুষের জীবন মান উন্নত হয়েছে, গড় আয়ু অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চলে গেছে। সেখানে সেবা পেতে ফ্লোরে থাকা খুবই কষ্টের কথা।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যদি ভালো চিকিৎসা দিতে পারে, থাইল্যান্ড চিকিৎসা সেবা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ করতে পারে, তাহলে আমরাও আমাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব। একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসবে, সেই মানুষ হাসপাতাল থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা লাভ করবে এটিই স্বাভাবিক। এ জন্য কেউ চিকিৎসা নিতে এসে জায়গা না পেয়ে ফ্লোরে চিকিৎসা নেবে এটা অচিরেই বন্ধ করতে সব রকম কাজ করা হবে। এ জন্যই এবার আমরা মাঠে নেমে যাচ্ছি।’

জাহিদ মালেক বলেন, বর্তমানে দেশে বছরে ৯০ হাজার শিশু জন্মকালীন বিভিন্ন সমস্যায় মারা যায়। এদের ৫২ শতাংশই মারা যায় জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। এই মৃত্যুর প্রায় সবই হয় বাড়িতে প্রসবের সময়ে। এ জন্যই শিশুর জন্মকালীন প্রতিটি মায়েদেরকে হাসপাতালে নেওয়া ও সরকারি চিকিৎসা সেবা দেওয়া উচিত।

শিশুদের জন্য স্ক্যানু সেবা চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় এক লাখ শিশুর জীবন রক্ষা করেছে এই সুবিধা। এ কারণে দেশের শিশু মৃত্যুহার এখন উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সভা শেষে দেশের ৫০টি জেলায় ৭৪টি স্ক্যানু উদ্বোধন করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মুহ. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান, ইউনিসেফের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা আহমেদুল কবীর প্রমুখ।