🕓 সংবাদ শিরোনাম

নারী সহকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার * গাছ থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার * পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা * যে সংবাদের শিরোনামে ‘বিব্রত’ সময়ের কণ্ঠস্বর ! * গিনেস রেকর্ডে ফের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেল * অনিশ্চয়তার বেড়াজাল পেরিয়ে অবশেষে ঢাকা আসছেন ‘ড্যান্স কুইন’ নোরা ফাতেহি * বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত * বড়দের সামনে সিগারেট খাওয়া নিয়ে দ্বন্দে কয়েকদফা সংঘর্ষ, আহত ১১ জন * বগুড়ায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে সাবেক সেনা সদস্য খুন * পণ্ড বিয়ের আয়োজন, বর গেলো শ্রীঘরে, অর্থদণ্ড হলো কনের বাবার *

  • আজ শনিবার, ২৩ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৮ অক্টোবর, ২০২২ ৷

ডলারের দাম বৃদ্ধি বিপাকে পোশাক ব্যবসায়ীরা

Keranigonj news
❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ ঢাকা

মাসুম পারভেজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত তৈরি পোশাকশিল্প। সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানে গত চার দশক ধরে বড় অবদান রেখে চলছে খাতটি। যা বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের হাজার হাজার কারখানায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনের পরেই বাংলাদেশ। অন্যদিকে দেশের বাজারের চাহিদার ৬০ শতাংশের জোগান দেয় ঢাকার কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লী। বিশেষ করে ঈদ ও শীতের মৌসুমের পোশাকের বড় অংশই তৈরি হয় সেখানে। আর সেই সময়ের বেচাকেনার মুনাফায় বছরের বাকিটা সময়ও কেটে যায়। তবে হঠাৎ করে ডলারের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন কেরানীগঞ্জের তৈরি পোশাক উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। কাঁচামাল আমদানির খরচ বাড়ায় ইতোমধ্যে উৎপাদন কমিয়েছেন তারা। আসন্ন শীত মৌসুমের চাহিদামতো উৎপাদন নিয়েও শঙ্কায় আছেন তারা। এদিকে ভারত, থাইল্যান্ড, চীন থেকে অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার কম পোশাক আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির ঈদের পর থেকেই ক্রেতাশূন্য কেরানীগঞ্জের গার্মেন্ট পল্লী। ব্যবসায়ীরা ২ মাস পরে শুরু হতে যাওয়া শীত মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে তাদের চোখে-মুখে চিন্তা এবং হতাশার ছাপ। সেখানকার গার্মেন্ট পল্লীর ব্যবসায়ীরা জানান, ডলারের দাম বাড়ার কারণে একদিকে যেমন কাঁচামালের দাম বেড়েছে তেমনি বেড়েছে আমদানি শুল্কও। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে পরিবহণসহ অন্যান্য খাতেও। অথচ সে অনুপাতে অর্ডার নেই। কারখানাগুলোতে আগে যেখানে ১৫-২০টা মেশিন চলত সেখানে এখন ১০-১৫টা মেশিন চলছে। সবাই ডলারের দাম কমার অপেক্ষায়।

পোশাক আমদানিকারক হানিফ আলী বলেন, ‘গত বছর আমাদের ১ লাখ ডলারের পোশাক কিনতে খরচ হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। এবার ১ লাখ ডলারের একই ধরনের পোশাক কিনতেই আমাদের খরচ করতে হচ্ছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। পোশাক কেনার সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্স রেটও বেড়ে গেছে। যার কারণে পোশাকের দাম অটোমেটিক বেড়ে গেছে। এ কারণে এবার আমরা কম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘বোঝাই যাচ্ছে এবার শীতে আমাদের ব্যবসা করাটা অনেক দুরূহ হয়ে যাবে।’

আমির হোসেন নামে এক কারখানা মালিক জানান, আগে যে পেস্টিং ৫০ টাকা দিয়ে কিনতেন সেটা এখন ৭৫ টাকা, ১২০০ টাকার ফিউজিং এখন কিনতে হচ্ছে ১৭০০ টাকায়। ২০ টাকার সুতা ২৫ টাকা হয়েছে। ৩০ টাকার বোতাম হয়েছে ৫০ টাকা।

আমির হোসেন বলেন, ‘কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমরা পোশাক তৈরির মজুরি বেশি নিতে পারছি না শোরুমগুলোর কাছ থেকে। আমরা এখন কারখানা চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।’

ব্যবসায়ী আজিজ রাব্বি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত কাপড়, বোতাম, চেইন, পলি, স্টিকারসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়েছে। একই পোশাক উৎপাদন খরচ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে পাইকারিতে তাদের দাম না বাড়িয়ে বিকল্প নেই। আবার দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাড়তি দামে পাইকাররা কিনবেন কি না তা নিয়েও চিন্তা আছে।

এমরাত হোসেন বলেন, ‘ডলারের দাম বাড়ার কারণে কিছু পোশাকে দাম এতটাই বেড়েছে যে তা অনেক ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে যদি আমরা প্রোডাক্ট না দিতে পারি তাহলে ব্যবসা করতে পারব না।’

এ বিষয় কেরানীগঞ্জ ক্ষুদ্র গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মুসলিম কালেকশনের স্বত্বাধিকারী মুসলিম ঢালি জানান, ‘ডলারের দাম বাড়ায় সুতার দাম বেড়ে গেছে। অনেকে কাপড় কেনা ও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। এখন আমরা দাম কমার অপেক্ষায়। ইসলামপুরের ব্যবসায়ীরাও থান কাপড় আনছেন না। ফলে আমরা নতুন কাঁচামাল পাচ্ছি না। অনেকে কাজে হাত দিতে পারছেন না। অথচ শীতের আগে এখনই পোশাক তৈরির সময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বাড়তি দামে কাপড়-সুতা কিনে শীতের পোশাক তৈরি করছেন। কিন্তু পরে যদি ডলারের দাম পড়ে যায় তখন তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

কেরানীগঞ্জ ক্ষুদ্র গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়াতে কাপড়ের চাহিদা সাধারণ মানুষের মধ্যে এমনিতেই কমে গেছে। তার ওপরে ডলারের দাম বাড়ায় কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লীতে একটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শীতের চাহিদামতো পোশাক উৎপাদন নিয়েও আছে শঙ্কা। তবে দ্রুত যদি ডলারের দাম কমলে স্বস্তি পাবেন ব্যবসায়ীরা।