• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালিয়ে নাটোরে এসে গণধর্ষণের শিকার কিশোরী!


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ দেশের খবর, রাজশাহী

নাটোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর এক কিশোরী (১৬) ঘর ছেড়ে প্রেমিকের (২১) সঙ্গে নাটোরে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নাটোর শহরের তিন বখাটে যুবক কথিত প্রেমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কিশোরীকে ধর্ষণের পর বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি কারও কাছে প্রকাশ করলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

প্রেমিকসহ ওই কিশোরী নাটোর থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি জানানোর পর পুলিশ অভিযানে নেমে তিন ধর্ষকসহ পাঁচজনকে আটক করে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে শহরের হাফরাস্তা এলাকার সাগর মিয়ার ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের দুর্গম বিলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ধর্ষণে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। তারা হলেন শহরের কানাইখালী মহল্লার আফজাল হোসেনের ছেলে রনি মিয়া (২৬), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রকি (২৮) এবং আব্দুল মজিদের ছেলে সোহান (২৬)। ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে বাড়ির মালিক মৃদুল হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী মিথিলা পারভীনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে রাজশাহী নগরীর বিনোদপুর থেকে আবির মাহমুদ (২১) নামের এক দোকান কর্মচারী তাঁর এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেমিকাকে নিয়ে নাটোর শহরে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

পরে ওই বন্ধু তাদের বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শহরের হাফরাস্তা এলাকায় মৃদুল ও মিথিলা দম্পতির বাসায় নিয়ে যান। সেখানেই তাদের বিয়ের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।
তারা দুজন ওই বাড়িতে অপেক্ষা করতে থাকে। এই মৃদুল-মিথিলা দম্পতি তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ধর্ষক রনি, রকি ও সোহানকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়।

এ সময় তারা তরুণীর প্রেমিকের গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে তাদের টাকা না দিলে ও কাউকে ঘটনা জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। রাত আনুমানিক ১১টায় মৃদুল-মিথিলা দম্পতির চোখ ফাকি দিয়ে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে নাটোর থানায় এসে ঘটনা জানায়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আসামি ধরতে অভিযান শুরু করে। রাতেই মিথিলা ও মৃদুলকে শহরের হাফরাস্তা থেকে আটক করা হয়।

নাটোর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) জামাল উদ্দীন জানান, ধর্ষিতার অভিযোগ পাওয়ার পর পরই আমরা অভিযানে নামি। ঘটনার পর পরই শহরের হাফরাস্তা থেকে দুই সহযোগী এবং তেলকুপি নূরানীপাড়া থেকে তিন ধর্ষককে আটক করা হয়।

নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্নের পর মামলা দায়ের হবে। প্রেমিক ও তরুণী থানা হেফাজতে আছে। কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।