🕓 সংবাদ শিরোনাম

ইডেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ * ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে কিশোরী হত্যা, এলাকাজুড়ে উত্তেজনা, আটক ২ * রাজধানীসহ ১০ বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ কর্মসূচির তারিখ ঘোষণা বিএনপির * একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধী খলিল সাভার থেকে গ্রেপ্তার * কন্যা দিবসে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন সন্তানের জন্ম ,নাম পদ্মা-মেঘনা-যমুনা * পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা , পলাতক স্বামী * দালালদের নিয়ন্ত্রণে পাসপোর্ট অফিস, ‘বিশেষ সংকেত’ নিয়ে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ * মাঝপথে তরুণীকে বাইক থেকে নামিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে চালক আটক * কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে এসএসসি পরীক্ষার্থী * প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশের দূরদর্শী নেতা নন, সারা বিশ্বেও নন্দিত নেতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী *

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ৷

খালি হাতে মালয়েশিয়ায় গিয়ে শিল্পপতি মিজানের সাথে সরকারের শত শত কোটির চুক্তি

Malaysia news
❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২ প্রবাসের কথা

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া: ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পরিবারের সু-দিনের আশায় এক প্রকার খালি হাতেই বাড়ি ছাড়েন চাল চুলোহীন ঠাকুর গাঁওয়ের মিজান। ঢাকায় এসে হতাশ হয়ে ১৯৯৬ সালে নির্মান শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। মিজান এখন প্রথম শ্রেনীর শিল্পপতি। স্বল্প পড়াশুনা করা মিজান কঠোর পরিশ্রম, সততা আর লেগে থাকার জেদ এর কারণে একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করেন। তার জীবন কাহিনী কর্মদক্ষতা আর নিষ্ঠার কথা ছড়িয়ে পড়ে মালয়েশিয়ায়। ২০১৫ সালে রাজ্যের রাজা তার কর্মে সন্তষ্ঠ হয়ে সমাজের অত্যন্ত সম্মান সূচক ডিগ্রি দাতু উপাধি দেন। যা বাংলাদেশের হাতে গুনা কয়েকজন পেয়েছেন। মিজানের নাটকীয় উত্থান সিনেমার গল্প কেও হার মানায়।

ধীরে ধীরে দাতু মিজান দেশটির সেরা কনস্ট্রাকশন শিল্পের কর্নধারের পরিচিত পেয়ে যান। নাম হয় মিজান গ্রান্ড ইন্টারট্রেডার্স এসডিএন বিএইচডি। মিজানের উপর নজড় পড়ে দেশটির সরকারের। একজন বাংলাদেশি দাতু মিজানের হাতে গড়ে উঠছে বিশাল অট্রালিকা বিলাসবহুল এ্যাপার্টমেন্ট। সরকার কর্ম দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে মিজানের সাথে একের পর এক শত শত কোটি টাকার প্রজেক্ট বাস্তবায়নে চুক্তি শুরু করেন। সর্বশেষ সম্প্রতি মিজান গ্রান্ড এর অধীনে কেলান্টন কোতাবারু প্রদেশের সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস (এপিএম) হেডকোয়ার্টার্স নির্মাণ কাজের উদ্ভোদন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুবের কার্যালয়ের সিনিয়র মন্ত্রী দাতু আবদূল লতিফ বিন আহমদ।

এই প্রজেক্ট টি বাস্তবায়নে সরকারের সাথে মিজান গ্রান্ড এর সরাসরি চুক্তি হয় ১২৫ কোটি টাকার। এরকম সারাদেশে সরকারের ৫ টি মেঘা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে মিজান গ্রান্ড এর সাথে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি গুলো কোন মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি মিজান গ্রান্ড সাথে করা হয়েছে যা মালয়েশিয়ায় বিরল। বর্তমানে একসাথে ৫ টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। সিভিল ডিফেন্স নির্মাণ কাজ নিজ হাতে ইস্কাভেটর চালিয়ে উদ্ভোদন করার সময় মন্ত্রী বলেন আমরা সময়ের সেরা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি মিজান গ্রান্ড ইন্টারট্রেডার্স কে দায়িত্ব দিয়েছি।

সিভিল ডিফেন্স এর প্রাদেশিক প্রধান উদ্ভোদনী বক্তৃতায় বলেন, আমরা এমন এক সেরা কোম্মানি কে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছি ৩ বছর মেয়াদের কাজ টি মাত্র ২ বছরেই শেষ করতে সক্ষম। এই মিজান গ্রান্ড ইন্টারট্রেডার্স এই প্রদেশ সহ সারা দেশে দক্ষ ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মানেই শ্রমিক হিসেবে যাওয়া অথবা স্টুডেন্ট ভিসায় গিয়ে শিক্ষা অর্জন করা। দেশটিতে প্রায় কম বেশি ১০ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। মাই সেকেন্ড হোমের ভিসায় হাজার তিনেক অবস্থান করছেন। কিন্তু মিজান একজন অভিবাসী নির্মান শ্রমিক থেকে দেশটিতে শিল্পপতি বনে যাওয়ার কাহিনী ১০ লাখ প্রবাসীর কাছে এক অনকরনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি তার অধীনে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তার কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিতে আরো ২ হাজার শ্রমিক প্রয়োজন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে এমন তথ্যের সত্যতা মিলেছে। শতাধিক মালয়েশিয়ান নাগরিক তার কোম্পানি তে কর্মরত রয়েছেন।

মূলত দাতু মিজান নির্মাণ শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিপ্লব ঘঠিয়েছেন। মজার বিষয় হলো শত কোটি টাকার শতাধিক ইস্কাভেটর, টাওয়ার ক্রেন, পেলোডার, লরি, ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে কম সময়ে মানুষের পরিশ্রম কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় কাজের মাধ্যমে রাতারাতি সু উচ্চ অট্রালিকা তৈরী করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে সময় অর্থ দুটোই বাঁচে।

দাতু মিজানের আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম টি হচ্ছে গাধার মত খাটুনি, সততার সাথে শ্রমিকের বেতন ভাতা পরিশোধ, ভিসা পারমিট করার দায়িত্ব নিজ হাতে হ্যান্ডলিং করা, কৌশলী মধুর ব্যবহার করে কাজ আদায় করে নেওয়া, শ্রমিকের বিপদ আপদে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে পাশে থাকা। এমন একাধিক শ্রমিক বান্ধব কর্মকান্ডে সাফল্যের চূড়ায় উঠতে সিড়ি হিসেবে কাজ করেছে।

মালয়েশিয়ায় অসংখ্য কনস্ট্রাকশন কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে শ্রমিক নির্যাতনসহ সঠিক সময় বেতন না দেওয়া এবং তাদের ন্যায়সংগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। শ্রমিকরা বাধ্য হয় কাজ ছেড়ে যেতে। কিন্তু দাতু মিজানের কোম্পানি তে যোগদান করলে শ্রমিকরা কখনো কাজ ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তাও করেন না।

এবিষয়ে পাবনার মোঃ হারুন মিয়া বলেন, ২৬ বছর আগে দাতুর সাথে যোগ দিয়ে আজ আমি মালয়েশিয়ার নাগরিক, এখানে বিয়ে করে বাড়ি গাড়ি সংসার করছি, এসব সম্ভব হয়েছে দাতু মিজানের কারণে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় দাতু মিজান একজন শিল্পপতি হয়েও শ্রমিকদের সাথে বসে ভাত খাচ্ছেন। শ্রমিকদের সাথে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে শ্রমিকের ঘামের গন্ধমাখা বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে রাত কাটিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে মালিক শ্রমিকের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে উভয়ে লাভবান হচ্ছেন।

শুন্য থেকে মালয়েশিয়ায় শিল্পপতি হওয়ার মূল মন্ত্র কি এ বিষয়ে দাতু মিজানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা খুবই সহজ এবং সুলভ, আমার কাছে কোন যাদু মন্ত্র নেই, আপনি যে কাজই করেন না কেন কঠোর পরিশ্রম করতেই হবে, কেহ মূল্যায়ন করুক বা না করুক সেটা কোন বিষয় না, কাজে ফাঁকি বা প্রতারণা করা চলবে না, সব সময় মাথায় রাখুন বৈধ পন্থায় আপনাকে আরো বড় হতেই হবে যে কোন মুল্যে, অর্পিত দায়িত্ব পালনে অধীনস্থদের প্রতি অন্যায় আচরণ, বেতন মেরে দেওয়া ও তাদের মনে কষ্ট দিয়ে আপনি কখনোই সামনে অগ্রসর হতে পারবেন না কারণ এটা ভয়ংকর অভিশাপ। নানা কৌশলে শ্রমিকদের খুশি রাখতে পারলে আপনার কোম্পানির অগ্রগতি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না। এই গুণাবলি ধারণ করে এগিয়ে যান সাফল্য আসবেই।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন