• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

Bogura News
❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: নিম্নচাপের কারণে সারাদেশে এখন ভারি বর্ষণ হচ্ছে। দিনব্যাপি চলছে বৃষ্টির খেলা। আর এতে মাথায় হাত পরেছে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনয়িনের কয়েকটি গ্রামের কৃষকের। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হবে প্রায় ৪শ বিঘা জমির ধান। যত্ন করে লাগানো কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে। যে এলাকার মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল সে এলাকায় এমন অবস্থা চলতে থাকলে দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাবে এই গ্রামগুলোর মানুষেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আর কিছুদিন পরেই ধানগুলো ফুলতো। ইতিমধ্যে সার ও কিটনাশক বাবদ অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছেন তারা। কিন্ত বাঙালি নদী থেকে রক্ষা পেতে যে বাধ দেয়া হয়েছিল, সেই বাধ দিয়ে পানি বের হতে না পারায় বৃষ্টির পানি জমে যাচ্ছে ধানের জমিতে। ইউনিয়নের চককল্যানী, জয়নগর, চকবেওয়া, জয়লা জুয়ান, গুয়াগাছি ও টেংরাখালি গ্রামের পানি এসে জমে বিলজয় সাগর বিলে। পানি নিস্কাশনের জন্য স্থানীয় কৃষকরা কাটাখালী বাধের নিচ দিয়ে ৫ টি পাইপ দিলেও তা যথেষ্ট নয়। বৃষ্টির পানি বের হতে তবুও প্রায় ৯ দিন সময় লেগে যাবে। এতোদিন ধান পানির মধ্যে থাকলে গাছগুলো নস্ট হয়ে যায়। তাই খুব দ্রুত পানি নিস্কাশনের জন্য কাটাখালী বাধে একটি স্লুইস গেটের দাবি জানিয়েছেন এই এলাকার কৃষকেরা।

এ ব্যাপারে চককল্যানী গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, বিলজয়সাগর বিল ঘেষে আমি ৬ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। বৃষ্টির পানি বের হতে না পারায় ধানগুলো ডুবে গেছে। আর কিছুদিন পর ধানগুলো ফুলতো। যদি ১ দিনের মধ্যে পানি নিস্কাশন না হয় তাহলে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। বছরের পর বছর এভাবে চলতে থাকলে আমরা কোনদিনই লাভবান হতে পারবোনা। তাই কাটাখালী বাঁধে একটি স্লুইস গেট নির্মান করা খুব জরুরী।

আরেক কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের ভারি বর্ষনে সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি শুকালে জমিতে এখন মরা গাছ পরে থাকবে।

এ বাপারে সুঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান জিন্নাহ বলেন, পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক গ্রামের কৃষকের প্রায় ৪শ বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। এলাকাবাসী একটি স্লুইস গেটের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের এতো বড় কাজের বাজেট নেই। তাই শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে বলে স্লুইচগেট নির্মানের চেষ্টা করা হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর-ধুনট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ হাবিবর রহমান বলেন, এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাটাখালী বাঁধে একটি স্লুইসগেট নির্মানের সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।