• আজ রবিবার, ১৭ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ২ অক্টোবর, ২০২২ ৷

আশুলিয়ায় দাদাকে হত্যা করে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়েছে নাতি ও নাতবৌ


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ঢাকা, দেশের খবর

আশুলিয়া প্রতিনিধি : রবিবার রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় একটি টিনশেড বাড়ির কক্ষ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, গ্রাম থেকে বাড়িটির এক দম্পতির কাছে বেড়াতে এসেছিলেন মারা যাওয়া ব্যক্তি, তিনি সেই দম্পতির দাদা। দাদাকে (৪০) হত্যা করে পালিয়ে যাবার অভিযোগ উঠেছে সেই দম্পতির বিরুদ্ধে।

বাড়ির মালিক আসলাম ও প্রতিবেশীদের থেকে জানা যায়, বাড়ির একটি কক্ষে সবুজ ও জেসমিন নামে এক দম্পতি গত পাঁচ মাস ধরে বসবাস করছিল।

গত রাতে তাদের দাদা পরিচয়ে নিহত এই ব্যক্তি গ্রাম থেকে বেড়াতে আসেন। পরে আজ সারা দিন তাদের ঘর থেকে কোনো শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি বাইরের যৌথ রান্নাঘরে সারা দিন তাদের কাউকে দেখতে না পেয়ে সন্দেহ করে সবাই।

এ ছাড়া তাদের দুই মাসের ঘর ভাড়াও বকেয়া ছিল। পরে কক্ষের কাছে গিয়ে দেখা যায় দরজায় তালা। প্রথমে সবাই ভেবেছিল ভাড়া না দিয়ে হয়তো পালিয়েছে তারা। কিন্তু তালা ভেঙে ঘরের মেঝেতে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ওই ব্যক্তির লাশ দেখতে পাওয়া যায়। পরে আশুলিয়া থানায় খবর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত তাদের কক্ষে সাউন্ডবক্সে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল বলেও জানান রাজিদা বেগম নামের এক প্রতিবেশী। প্রতিবেশীরা বলছেন তাদের বাসায় বেড়াতে আসা মানুষটিকে এভাবে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক।

পলাতক দম্পতি সুবজ ও জেসমিনের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তবে তাদের পরিচয় সঠিক কি না সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সবুজ এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করত এবং জেসমিন গৃহিণী।

আশুলিয়া থানার এসআই মিলন ফকির জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমকিভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়েছে ওই দম্পতি। তবে নিহতের পরিচয় পাওয়া গেলে জানা যাবে যে তারা আসলেই তাদের আত্মীয় কি না এবং হত্যার কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।