🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

ইতিহাস বলে, সন্ত্রাস করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি: মির্জা ফখরুল


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা :বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, সরকার মানুষের অধিকারের দাবিতে বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে, নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা-হয়রানি করে, সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সন্ত্রাস করে কেউ কখনো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি।

রাজধানীর পল্লবীসহ দেশব্যাপী বিএনপির চলমান আন্দোলনে পুলিশের গুলিবর্ষণ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে আজ রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি উত্তর-দক্ষিণ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা সন্ত্রাস, হত্যা, সভা পণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সন্ত্রাস করে কেউ কখনো ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আজকে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছেন, হামলা করছেন। এগুলো করবেন না। নির্যাতন-নিপীড়ন, দমন করে বাংলাদেশের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না।

আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার জন্ম সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। সন্ত্রাস না করলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। তারা সন্ত্রাস করে, ত্রাস সৃষ্টি করে, ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছে। যখন দেশের মানুষ অধিকারের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করছে সেখানে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, তাবিথ আউয়ালের রক্ত ঝরিয়েছে।

মিয়ানমার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে বোমা মারছে অথচ সরকার নীরব। তারা রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এদের কোমর সোজা নাই। এরা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। সে কারণেই তারা বুক ফুলিয়ে মিয়ানমারের বোমার প্রতিবাদ করতে পারছে না।

আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতিসহ মানুষের ন্যূনতম বেঁচে থাকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের গুম সংক্রান্ত যে ওয়ার্কিং গ্রুপ তারা বলেছে, বাংলাদেশে গুম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৮৮ জনের লিস্টের মাত্র ৬ জনের কথা সরকার জানে আর বাকিগুলো জানে না। জানবে কই থেকে? তারাতো নিজেরাই গুম করেছে।

এই সরকার যত দিন থাকবে তত দিন সমস্ত মানুষের অর্জনগুলোকে তারা ধ্বংস করে দেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা দেশ ও মানুষের উন্নয়ন করছে না। তারা উন্নয়ন করছে নিজেদের। জনগণের পকেট কেটে হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে।

সিআইডি এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়। ইকোনমিস্ট পত্রিকা বলছে, বাংলাদেশ একটা কর্তৃত্ববাদী দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২।

প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, একাত্তরে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যা করেছে, শেখ হাসিনাও তাই করছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান বুলু তো কোনো কর্মসূচিতে ছিলেন না, তার স্ত্রীর পা থেঁতলে দিয়েছে। তারা গ্রাম থেকে ঢাকা আসছিলেন। যে রক্ত ঝড়ানো হচ্ছে তার প্রতিটি রক্ত কণার হিসেব নেওয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, এখনো সময় আছে দেশটাকে অরাজকতার দিকে ঢেলে দেবেন না। পুলিশ ভাইদের বলব, যারা লাঠি, অস্ত্র নিয়ে আসে তাদের থামান। যদি না পারেন তাহলে থানায় অবস্থান করেন। তাদের পক্ষ হয়ে গুলি কইরেন না। থানা থেকে বের হইয়েন না। প্রতিটি এলাকায়, ওয়ার্ডে, মহল্লায় মহল্লায় যুদ্ধ হবে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির যুদ্ধ হবে রাজপথে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এখানে মিছিল করা যাবে না, ওখানে মিছিল করা যাবে না। কোথায় মিছিল করব গণভবন, বঙ্গভবনে? আপনি বললেন, মিছিল, মিটিং করলে বাঁধা দেওয়া হবে না। এটা বলার পরেই সবখানে হামলা শুরু হলো। তিনজনকে গুলি করে মারা হলো। আপনার ওপর আর দেশের মানুষের আস্থা নাই। আপনি বলেন এক আর করেন আরেক।

প্রতিবাদ সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, হামলা করে বিএনপির আন্দোলন বন্ধ করতে পারবেন না। আঘাত আসলে পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন। শেখ হাসিনার কথায় দেশ চলবে না। প্রতিটি অলিগলিতে মিছিল হবে।