• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

ইভ্যালিতে ফিরছেন শামীমা নাসরিন


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: ইভ্যালিতে নতুন চারজন পরিচালকের সঙ্গে ফিরতে যাচ্ছেন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে শামীমার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছেন তার মা ফরিদা তালুকদার এবং ভগ্নিপতি মামুনুর রশীদ।

এ ছাড়া ই-ক্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি স্বাধীন পরিচালক হিসেবে ইভ্যালির পর্ষদে যোগ দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় এমন পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

আর এর মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে যাচ্ছেন সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন উচ্চ আদালত কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ।

জানা যায়, বর্তমানে ইভ্যালির ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ফরিদা তালুকদার ও মামুনুর রশীদের কাছে। উচ্চ আদালতে শামীমা নাসরিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনিসহ তার মা ও ভগ্নিপতিকে ইভ্যালিতে পরিচালক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেন আদালত। গত ২৪ আগস্ট একক বেঞ্চে এ বিষয়ে আদেশ জারি করেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম।

এ আদেশে চলতি ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন শেয়ারহোল্ডারদের নাম প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া শেষ করতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসসের রেজিস্ট্রারকে নতুন শেয়ারহোল্ডারদের নাম নিবন্ধনেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আদেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইভ্যালির অডিট রিপোর্টও প্রতিষ্ঠানটির কাছে জমা দেওয়ার আদেশ দেন বিচারপতি খুরশীদ আলম।

এরই মধ্যে অডিট ফার্মের পক্ষ থেকে সেই রিপোর্ট ইভ্যালির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ই-ক্যাব মনোনীত একজন প্রতিনিধি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত কমপক্ষে উপসচিব পদমর্যাদার একজন সরকারি কর্মকর্তা স্বাধীন পরিচালক হিসেবে পর্ষদে যোগ দেবেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনীত প্রতিনিধির নাম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। উভয় সংস্থা নিজেদের মনোনীত প্রতিনিধির নাম জমা দিয়েছে। তবে প্রতিনিধিদের নাম এখনো প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ।

জানা গেছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সভায় শামীমা নাসরিন, তার মা ও বোনের স্বামীকে ইভ্যালি পরিচালনার বোর্ড সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তারপর আদালতের নিযুক্ত পরিচালনা বোর্ড চাইলে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবে। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এফিডেভিট আকারে হাইকোর্টকে জানাতেও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ অক্টোবর ইভ্যালি পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বোর্ড গঠন করেন।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন- স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, ওএসডিতে থাকা আলোচিত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় ইভ্যালির মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

গত ২১ এপ্রিল চেক প্রতারণার ৯ মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে জামিন দেন আদালত। ওই দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় কারামুক্ত হতে পারেননি রাসেল। শামীমা নাসরিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।