• আজ বুধবার, ২০ আশ্বিন, ১৪২৯ ৷ ৫ অক্টোবর, ২০২২ ৷

ভারতে স্থায়ীভাবে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা: ভারতে স্থায়ীভাবে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ রিট দায়ের করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা বিবেচনা না করেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।

এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে, ণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে ৭ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। কিন্তু বর্তমানে ইলিশ মাছের অত্যাধিক দামের কারণে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ইলিশ কেনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। অপরদিকে দেশের মধ্যবিত্ত জনগণও ইলিশ মাছ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ইলিশ মাছের দাম গড়ে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি।

এছাড়া ইলিশ মাছের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু হলো পদ্মা নদীর ইলিশ। বাজারে পদ্মার ইলিশের দাম গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি। কিন্তু পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায় এবং বাজারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পদ্মার ইলিশ পাওয়া যায় না। বরং যেসব ইলিশ পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত অন্যান্য নদীর ও সামদ্রিক ইলিশ মাছ।

নোটিশে আরও বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এই যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা না করে ভারতে ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। ভারতে ইলিশ রফতানির ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও দুঃখজনক বিষয় এই যে, বাংলাদেশের বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে ভারতে ইলিশ রফতানি করা হচ্ছে।’

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভারতে যে ইলিশ রফতানি করা হচ্ছে— সেগুলো মূলত পদ্মার ইলিশ। এমনিতেই পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়। তাই এই পদ্মার ইলিশগুলো ভারতে রফতানির ফলে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে পদ্মার ইলিশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের রফতানি নীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী, ইলিশ মাছ মুক্তভাবে রফতানিযোগ্য পণ্য নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অনায্যভাবে, জণগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার যদি বিদেশিদের ইলিশের স্বাদ উপভোগ করাতে চায়, সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ‘ইলিশ উৎসব’ এর আয়োজন করতে পারে। যেখানে বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করে ইলিশের স্বাদ উপভোগ করবে। আসন্ন দুর্গা পূজায় ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে বাংলাদেশে ভ্রমণ করে ইলিশের স্বাদ উপভোগ করার জন্য। এখানে উল্লেখ্য যে, পর্যটন করপোরেশন আইন (বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন অর্ডার) এর ধারা ৫ অনুযায়ী— পর্যটনের উন্নয়ন, বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করাসহ পর্যটনের সব ধরনের উৎকর্ষ সাধনের দায়িত্ব পর্যটন করপোরেশনের।

তাই এই আইনি নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রফতানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অনুরোধ জানানো হয়। তবে সেই নোটিশের কোনও জবাব না পেয়ে রিট দায়ের করা হলো বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।