• আজ সোমবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

সতীর্থদের কাঁদিয়ে টেনিস ’রাজা’র বিদায়

Sports Desk
❏ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক: অঝোরে কাঁদছেন তিনি। যেন বাচ্চা ছেলে। তাঁকে শক্ত করে জড়িয়ে স্ত্রী। একের পর এক চুমু খাচ্ছেন গালে, কপালে। কানে কানে কিছু বলছেন। হয়তো বলছেন, ‘নিজের আবেগকে সামলাও।’ কিন্তু এই আবেগ যে থামার নয়। তা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। স্ত্রীর পরে দুই ছেলে, দুই মেয়ে। তার পরে বাবা, মা। পরিবারের পরে সতীর্থ নোভাক জোকোভিচ, রাফায়েল নাদালরা এসে জড়িয়ে ধরলেন। হাউ হাউ করে কাঁদছিলেন নাদাল। জোকোভিচও বার বার চোখ মুছছিলেন। প্রতিপক্ষের বিদায়ে কবে কে এ দৃশ্য দেখেছে! তিনি দেখালেন। বার বার ফেডেরারকে ঘিরে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটল লেভার কাপে। হাত বাড়িয়ে দিলেন কিংবদন্তি রড লেভার। নিজেকে কিছুটা সামলালেন ফেডেরার। পুরো কোর্ট ঘুরলেন। হাত নেড়ে দর্শকদের ধন্যবাদ জানালেন। শেষে নাদাল, জোকোভিচদের কাঁধে চড়ে বিদায় নিলেন ফেডেরার। বিদায়বেলায় আরও এক বার বুঝিয়ে দিলেন, তিনিই ‘রাজা’।

জন ম্যাকেনরো বলছেন, ‘‘আমার দেখা সব থেকে সুন্দর টেনিস খেলোয়াড়।’’ বিয়ন বর্গ বলছেন, ‘‘ইশ, আমি যদি ওর মতো টেনিস খেলতে পারতাম।’’ কে শুনছেন? রজার ফেডেরার। কী শুনছেন? তাঁকে নিয়ে কী বলছেন পূর্বসুরিরা। পাশে দাঁড়িয়ে নাদাল, জোকোভিচরা। তাঁদের চোখও শুকনো নয়। এমনকি, চিচিপাসের, রুডদের মতো তরুণ টেনিস খেলোয়াড়দেরও চোখে জল। সে সব দেখে নিজেকেও ধরে রাখতে পারলেন না ফেডেরার। কাঁদলেন। তাঁর কান্না দেখে কাঁদলেন দর্শকাসনে থাকা তাঁর স্ত্রী মিরকা ও পরিবারের অন্য সদস্য। সবাইকে কাঁদিয়ে টেনিস থেকে বিদায় নিলেন ফেডেরার।

দীর্ঘ চোটের পরে আরও এক বার খেলবেন বলে জানিয়েছিলেন ফেডেরার। শেষ বারের মতো। শেষ লড়াইয়ে পাশে নিয়েছিলেন অন্যতম সেরা প্রতিপক্ষ নাদালকে। লেভার কাপের প্রথম দিন ফেডেরারময়। সব আয়োজন তাঁকে নিয়েই। তিনি যত বার কোর্টে নেমেছেন তত বার উদ্বেল হয়েছে গ্যালারি। সবাই হয়তো ভুলে গিয়েছেন, সেখানে ফেডেরার ছাড়াও নাদাল, জোকোভিচ, মারেরাও রয়েছেন। গ্যালারি বুঝিয়ে দিয়েছে, শেষ বারের মতো তাঁদের প্রিয় তারকাকে দেখার জন্যই এসেছেন। ফেডেরারের খেলা শুরুর আগেই কেঁদেছেন প্রৌঢ়া। ম্যাচের মধ্যে পাগলের মতো ফেডেরারের সংস্থার একের পর এক টি-শার্ট খুলে ছুড়ে দিয়েছেন তাঁরই কোনও এক ভক্ত। ফেডেরার দেখেছেন। হালকা হেসেছেন। কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। খেলা শেষে সেটা আর পারলেন না।

কোর্টে আর আগের মতো নড়াচড়া নেই। এক হাতের ব্যাক হ্যান্ড আর আগের মতো প্রতিপক্ষকে ছারখার করে দিতে পারে না। তবুও মাঝেমধ্যে দেখা গেল সেই পুরনো ঝলক। সঙ্গী নাদালও দীর্ঘ দিন ধরে চোট নিয়েই খেলছেন। তাই শুরুটা ভাল করলেও শেষ করতে পারলেন না ফেডেরাররা। হেরে গেলেন। কিন্তু এই ম্যাচ কি সত্যিই হার-জিতের পরোয়া করে। ফেডেরার জিতবেন, না হারবেন, তা দেখতে আসেননি কেউ। এসেছিলেন ফেডেরারকে দেখতে। এখানেই জিতে গেলেন তিনি। হার-জিতের ঊর্ধ্বে জিতে গেল টেনিস।

ফেডেরারের খেলা উপলক্ষ্যে নানা বন্দোবস্ত রেখেছিলেন আয়োজকরা। খেলা শেষ হতেই দেখানো হল একটি ভিডিয়ো। সেখানে ফেডেরারকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা বললেন বর্তমান ও প্রাক্তন টেনিস তারকারা। সেটা দেখতে দেখতেই কেঁদে ফেললেন ফেডেরার। তার পরে সঞ্চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। কোনও রকমে নিজের কথা শেষ করেই জড়িয়ে ধরলেন স্ত্রীকে। অন্য দিকে তখন ফেডেরারকে সম্মান জানাতে ‘স্টিল ফলিং ফর ইউ’ গাইছেন বিখ্যাত শিল্পী এলি গোল্ডিং। কিন্তু সে দিকে তাঁর তাকানোর সময় নেই। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছেন স্ত্রীকে। জীবনের এক ভালবাসা চিরদিনের মতো ছাড়তে চলেছেন। সেই কষ্ট ঢাকতে আর তো আর এক ভালবাসাকে আঁকড়ে ধরতেই হবে।