• আজ সোমবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

মধ্যরাতে ইডেন হলে মারধর, আত্মহত্যার হুমকি ছাত্রলীগ নেত্রীর!


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার চাঁদাবাজি ও সিট বাণিজ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক ছাত্রলীগ নেত্রীকে হল থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস শাখা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও বেগম রাজিয়া ছাত্রীনিবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী। মারধর করে বের করে দেওয়া নিয়ে ইডেন ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষে বিপক্ষে মিছিল হয়েছে।

ঘটনার পর নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দুইটার  দিকে ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন৷

জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, আমরা তাদের (সভাপতি ও সম্পাদক) কাছের মানুষ হতে পারিনি। তাই আমাদের নির্যাতন করা হচ্ছে৷ সভাপতি ও সম্পাদকের ন্যায়-অন্যায়গুলো আমরা যারা ধরিয়ে দেই, তারাই শত্রু হয়ে গেছি। কারণে অকারণে আমাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই ঘটনার বিচার না হয় তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো। এসময় তিনি নিজের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কী কারণে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে জানতে চাইলে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে হলের পলিটিক্যাল (রাজনৈতিক) রুমগুলো। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একচ্ছত্রভাবে হলের সিট বাণিজ্য করতে চান। যারা এর প্রতিবাদ করেছেন তারাই তাদের শত্রু হয়ে গেছেন।

ছাত্রলীগের উপর মহলে বিষয়গুলো জানানোর পরও কোনো সুরাহা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে ছাত্রলীগের উপর মহলে বিষয়গুলো জানিয়েছি। আর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তো ফোনই রিসিভ করেন না। তাদেরকে কীভাবে জানাবো?

নির্যাতনের শিকার এই ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরও বলেন, রাজিয়া হলে আমার রুমে হামলা করার সময় আমি সংশ্লিষ্ট হল সুপারকে জানিয়েছি যেন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। এর আগেই গেট দিয়ে প্রবেশ করার সময়ই আমার ওপর হামলা হয়। হাতে ও শরীরে আঘাত পেয়েছি। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী যারা সেখানে ছিলেন তাদের দিয়ে আমাদের ওপর সম্মিলিত হামলা করা হয়েছে৷

জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন অনিয়ম, চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্য ও হল দখল নিয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন জান্নাতুল ফেরদৌস। সাক্ষাৎকার দেওয়ার দুদিন পর শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এ সময় তাঁকে হেনস্তা করারও অভিযোগ ওঠে।

কথা-কাটাকাটির একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায় জান্নাতুল ফেরদৌস বলছেন, ‘আমাকে হাত ধরতেছে, সবাই আমার পিছনে লাগছে, আমাকে রোকসানা ধরছে। রিতু, স্বর্ণা, নুরজাহান, ফেরদৌসী, লিমা আপু, পপি, জ্যোতি আপু আছে; মীম ইসলাম আছে, বিজলী আছে, রোকসানা আছে। তারা আমাকে ধরছে।’ নামগুলো বলার সময় এই ফোন রাখ বলে আওয়াজও শোনা যায়।

এ বিষয়ে জানতে তামান্না জেসমিন রিভা ও রাজিয়া সুলাতানাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি। রাজিয়া বেগম ছাত্রীনিবাসের প্রাধ্যক্ষ নারগিস রুমা ও কলেজের অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তারাও ফোন রিসিভ করেননি।