• আজ সোমবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

মুখে ‘কুলুপ এঁটেছেন’ মরিয়ম মান্নানের মা রহিমা


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক : আত্মগোপন থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই কেন, কী কারণে তিনি এ আত্মগোপন করেছিলেন সেই রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

তবে অজ্ঞাত কারনে পুলিশের এসব তদন্তে সাড়া না দিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন রহিমা বেগম।ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চললেও কোনো প্রশ্নের উত্তর মেলেনি তা পক্ষ থেকে। পরে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে পুলিশ ।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে রহিমা বেগমকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ টিম। দিনগত রাত ২টার দিকে তাকে খুলনার দৌলতপুর থানায় আনা হয়।

এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপির) উপ-কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২৭ আগস্ট রহিমা বেগম নিখোঁজ হন। পরে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। আমরা তার সন্ধানে কাজ করি। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন না, যে কারণে সন্ধান পাচ্ছিলাম না। এক পর্যায়ে আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখি। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুসের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। আমাদের টিম যখন ওই বাড়িতে যায়, তখন দেখতে পায় রহিমা দুই নারীর সঙ্গে কথা বলছেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কথা বলা বন্ধ করে দেন।

মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুদ্দুসের স্ত্রী, ছেলে ও তার ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে এসেছি। তারা জানিয়েছেন, এক সময় কুদ্দুস খুলনার সোনালী জুট মিলে কাজ করার সময় রহিমা বেগমের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। ১৭ সেপ্টেম্বর রহিমা বেগম কাপড়সহ তাদের বাড়িতে যান। চিনতে পেরে তাকে জড়িয়ে ধরেন। তার সেবাযত্ন করেন। এর আগে তিনি কখনো চট্টগ্রাম ছিলেন, মোকছেদপুর ছিলাম। তবে আমরা এখনো সত্যতা যাচাই করতে পারিনি।

মোল্লা জাহাঙ্গীর বলেন, মামলাটি যেহেতু পিবিআইতে হস্তান্তর হয়েছে, তারা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখবে। ভিকটিমকে নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তাকে উদ্ধার করতে পেরে সবাই খুশি। বাকিটা পিবিআই তদন্ত করবে।

এর আগে, রহিমা বেগম স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন জানিয়ে দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাহিমা বেগম ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের জনৈক কুদ্দুস মোল্লার বাড়িতে ছিলেন। ২৮ বছর আগে কুদ্দুস মোল্লা সোনালী জুট মিলে চাকরিরত অবস্থায় রহিমা বেগমের মহেশ্বরপাশার বাড়িতে ভাড়া ছিলেন। রহিমা বেগম বর্তমানে অসুস্থ। উদ্ধার করার পর তিনি কথা বলছেন না। তাঁকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। পরে সব কিছু জানানো হবে।’

রহিমা খাতুনের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে এডিসি দৌলতপুরের নেতৃত্বে থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ অভিযানে যান। সেখানে গিয়ে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।’

এদিকে, রহিমা বেগমকে উদ্ধারের ব্যাপারে মরিয়ম মান্নান ফেসবুকে লিখেছেন, “খুলনার পুলিশ সুপার কল দিয়ে জানালেন আমার ছোট বোনকে আমার মা’কে পাওয়া গিয়েছে। আমার থেকে খুশি এই মুহুর্তে কেউ নেই। আমি এই মুহুর্তে খুলনা যাচ্ছি। ধন্যবাদ সকলকে।”

এর আগে গত শুক্রবার সকালে রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নান ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানায় উদ্ধার হওয়া এক নারীর মৃতদেহের সালোয়ার দেখে তার মায়ের লাশ বলে সনাক্ত করে। তবে, পুলিশ ডিএনএ টেস্ট না করে সেটি কার লাশ তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে বাড়ি থেকে নিচে নামেন রাহিমা বেগম (৫২)। এরপর আর বাসায় ফেরেননি। খোঁজ নিতে গিয়ে সন্তানরা মায়ের ব্যবহৃত জুতা, গায়ের ওড়না ও কলস রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। রাতে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। এরপর সাধারণ ডায়েরি ও পরে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন তার সন্তানরা। এ মামলা তদন্তকালে পুলিশ ও র্যাব ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করে।

আগের সংবাদ 

২৭ দিন পর যেভাবে জীবিত উদ্ধার হলেন মরিয়মের মা