• আজ শনিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

মালয়েশিয়ায় ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ প্রবাসের কথা

আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়শিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা এবং ফ্লাই এনজেড ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস এর আর্থিক অনুদানে ৩ বছর ধরে কারাবন্দী মোঃ হোসেনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে মালয়েশিয়া ত্যাগ করেন তিনি।

মোঃ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। তবে তার কাছে কোন বৈধ পাসপোর্ট না থাকায় বিস্তারিত ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন পুলিশের মামলা অনুযায়ী মোঃ হোসেন এর অপরাধ তার কোন বৈধ পাসপোর্ট ছিল না। পাসপোর্ট ছাড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর দীর্ঘ ৩ বছর প্রথমে জেলে এবং পরে ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিল।

হোসেন করোনা ভাইরাসের আগে আটক হওয়ার পর করোনা মহামারীসহ বিভিন্ন কারণে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দূতাবাসের ওয়েলফেয়ার বিষয়ক সহকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রতিবেদককে হোসেন এর বিষয়টি অবহিত করেন। তারপর প্রতিবেদক ফ্লাই এনজেড ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস এর মার্কেটিং ম্যানেজারকে অনুরোধ করেন হোসেনকে একটি ফ্রি টিকিট দেওয়ার জন্য। তারপর ইউএস বাংলার একটি ফ্রি টিকিট ডিটেনশন সেন্টারে দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো হয়। তবে হোসেন সে নিজ খরচে টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারলে আরো আগেই দেশে ফিরতে পারতো।

মালয়েশিয়ার জেলে আটক বন্দীদের দেশটির সরকার কর্তৃক ফ্রি টিকিটের ব্যাবস্থা না থাকায় অনেকেই বছরের পর বছর জেল খাটতে হয় বিনা হিসাবে। যদি কেউ ফ্রি টিকিট দেয় এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে টিকিট কিনতে পারে তাহলে দ্রুত দেশে ফেরা সম্ভব হয়। ডিটেনশন সেন্টার থেকে কোন বন্দী বাইরের কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না। তাছাড়াও বন্দী অবস্থায় নগদ টাকা রাখতে পারেন না তারা।

কিন্তু ডিটেনশন ক্যাম্পে যারা আটক থাকে তাদের সাথে একমাত্র দূতাবাস কর্মকর্তা ছাড়া আর অন্য কেহ যোগাযোগ করতে পারে না। বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। এজন্য সাজার মেয়াদ শেষ হলেও সময় মত দেশে ফিরতে পারেন না। সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যারা ডিটেনশন সেন্টারে আটক হন তাদের জন্য যেন সরকারি খরচে বিমান টিকিটের ব্যাবস্থা করা হয়। তাহলে তাদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (লেবার উইং) নাজমস সাদাত সেলিম বলেন, প্রথম দিকে ডিটেনশন সেন্টারে সহস্রাধিক বাংলাদেশি আটক থাকলেও এখন এই সংখ্যা খুবই কম। আমাদের তৎপরতায় বন্দীদের সংখ্যা ২ শত এর নিচে নেমে এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি ক্যাম্পে আটককৃতদের সংখ্যা শুন্যে নামিয়ে আনতে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশিদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন অবৈধ ও অনৈতিক পন্থায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ না করে। মালয়েশিয়া আসতে হলে অবশ্যই বৈধ পন্থায় আসতে হবে। অন্যথায় দেশটির প্রচলিত আইনের মুখোমুখি হতে হবে।