• আজ সোমবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

এবার প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান যুবক জয়পুরহাটে


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ দেশের খবর, রাজশাহী

সময়ের কণ্ঠস্বর, জয়পুরহাট: প্রেম মানে না কোনো বাধা। প্রেমের টানে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রায় প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ছুটে আসছেন ভিনদেশি তরুণ-তরুণী। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশে এসেছেন শ্রীলঙ্কান যুবক।

গত এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসেন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রোশান মিঠুন। এরপর যান উত্তরের জেলা জয়পুরহাটে। গত ২২ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সদরের উত্তর পাথুরিয়া গ্রামের প্রেমিকা রাহেনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। রাহেনা ওই গ্রামের শাহাদুল ইসলামের মেয়ে।

জানা গেছে, রাহেনা জর্ডানে গিয়ে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ওই কোম্পানির সুপাইভাইজার পদে ছিলেন শ্রীলঙ্কান যুবক রোশান। সেখানেই তাদের পরিচয় হয়। তারপর প্রেম। গত দেড় বছর আগে যুবক তার নিজ দেশে ফিরলেও জয়পুরহাটের যুবতী দেশে ফেরেন এ বছরেই। আর সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা থেকে জয়পুরহাটে এসে রাহেনাকে বিয়ে করেছেন রোশান।

রাহেনা বেগম বলেন, ‘পারিবারিকভাবে খুব কম বয়সে আমার বিয়ে হয়। সেই ঘরে আমার একটি বাচ্চাও আছে। ২০১৪ সালে জর্ডানে কাজ করতে যাই। সেখানে থাকতেই স্বামী আমাকে ডিভোর্স দেয়। পরে জর্ডানে আমার কোম্পানির সুপারভাজার রোশানের সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আমাদের প্রেম হয়।’

তিনি বলেন, ‘দেড় বছর আগে রোশান নিজ দেশে ফিরে যায়। পরবর্তীতে একে অপরকে বিয়ে করতে সম্মত হই। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশে চলে আসি। এর মধ্যে মোবাইলে আমাদের কথা হতো। তার পরিবারের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে।’

রাহেনা আরও বলেন, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর রওশন ঢাকা বিমানবন্দরে আসলে আমি তাকে জয়পুরহাটের বাড়িতে নিয়ে আসি। বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অ্যাফিডেভিট করে আমরা বিয়ে করি।’

শ্রীলঙ্কান যুবক রোশান মিঠু অল্প অল্প বাংলা বলতে পারেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে খুব ভালোবাসি। আমি এখানে এসে বিয়ে করেছি। এখানেই থাকতে চাই।’

রাহেনার বাবা শাহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়ে জর্ডানে ছিল। ওই ছেলেও জর্ডানে ছিল। তার বাড়ি শ্রীলঙ্কায়। সেখানে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে মেয়ে বিষয়টি জানালে রোশানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। তাদের কথাবার্তা অনেক ভালো লেগেছে। একপর্যায়ে ছেলেটিকে আমি বাংলাদেশে আসতে বলি। এরপর তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।’