• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

অটোরিকশায় তরুনীকে যৌন হয়রানি, কারাগারে এএসআইসহ ২ জন


❏ রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার বুড়িচংয়ে কলেজশিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বুড়িচং থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মালেক ও তাঁর সহযোগী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বিল্লালকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আজ রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান।

ওসি মারুফ রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় এক পুলিশসহ দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দুজন কুমিল্লা কারাগারে আছে।’

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলার বুড়িচং রাজাপুর ইউনিয়নের লড়িবাগ এলাকার এক কলেজছাত্রী মায়ের জন্য ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-বাগড়া সড়কের লড়িবাগ রাস্তার মোড়ে যান। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায়।

অটোরিকশাটির ভেতরে পুলিশের পোশাক পরিহিত একজনকে দেখে নির্ভয়ে উঠে পড়েন কলেজছাত্রী। অটোরিকশাটিতে ওঠার পর পুলিশের পোশাক পরিহিত লোকটি তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতে থাকেন। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে দেবেন বলেও প্রলোভন দেখান।

দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শের মাধ্যমে শ্লীলতাহানি করে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ও সিএনজিচালক এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান ওই তরুণীকে। এ ঘটনার পর ওই তরুণী কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন।

পরিবার থেকে কলেজে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে বিষয়টি জানান ওই ভুক্তভোগী। পরে এলাকায় ও থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা লোকটি কুমিল্লা বুড়িচং এএসআই আবদুল মালেক ও অটোরিকশাচালক মো. বিল্লাল হোসেন (৪৪)। অটোরিকশাচালক বিল্লাল বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের কণ্ঠনগর গ্রামের সুলতান আহম্মেদের ছেলে।

এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে উভয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ সুপার ও আদালতের নির্দেশনায় গত শুক্রবার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে কারাগারের পাঠানো হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন বলেন, আসামিরা বর্তমানে কারাগারে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি এখনো জব্দ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।