• আজ রবিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

ইবির পরিবহন নিয়ে যত অভিযোগ

University news
❏ রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২ শিক্ষাঙ্গন

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন সার্ভিস নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের অন্ত নেই। ক্যাম্পাসে শতভাগ আবাসিক সুবিধা নাহ থাকার পাশাপাশি টিউশন’সহ বিভিন্ন কাজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পার্শ্ববর্তী দু’জেলা শহরে যাতায়াতে নির্ভর করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়া করা পরিবহনের উপর। তবে শিক্ষার্থীদের অনুপাতে অপ্রতুল বাস, বেশীরভাগ পরিবহনের সুনির্দিষ্ট রুটপ্ল্যান নাহ্ থাকা, ফিটনেসবিহীন ভাড়া করা বাসে চলাচল, স্টাফদের খারাপ আচরণ’সহ নানা অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনকে ঘিরে।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়া করা পরিবহনের মধ্যে অনেকগুলোই ফিটনেসবিহীন। মাঝেমধ্যেই ভাড়া করা গাড়িগুলো পথিমধ্যে হুট করে নষ্ট হয়ে যায়। অল্প সময়ে তারা বাসগুলো সচল না করে বরং শিক্ষার্থীদের নামিয়ে কিছু সময় পরে বাসগুলো ঠিক করে অন্য জায়গায় ভাড়া খাটে। এছাড়াও প্রায়শই পথিমধ্যে বাস নষ্ট হলে শিক্ষার্থীদের বাস ঠেলতে দেখা যায়। এদিকে চালকদের অসাবধানতার কারণে প্রায় ছোটখাটো দূর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বাসের সুনির্দিষ্ট রুটম্যাপ নাহ্ থাকা, একাধিক স্থানে শিক্ষার্থীরা হাত নেড়ে বাস থামতে ইশারা করলেও বাস না থেমে বিশেষ করে সিঙ্গেল ডেকার বাসগুলো জোরে টেনে পিছনে বাস আছে বলে চলে যাওয়া’সহ নানা অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়াও বাসে প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সিট বরাদ্দ উল্লেখ্য থাকলেও বাস্তবে সিট না পেয়ে প্রায়ই দাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ পরিবহন বিশেষ করে ভাড়া করা গুলোর অবস্থা সংকটাপন্ন। নূন্যতম ফিটনেস নিয়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত বাসগুলোর ভাঙ্গা লুকিং গ্লাস, বাসের অভ্যন্তরে নিয়মিত পরিষ্কার নাহ করা, ভাঙ্গা সিট, বেশীরভাগ বাসে রুটম্যাপ নাহ্ থাকা সহ নানা সীমাবদ্ধতা প্রকাশ্যে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বাসের এক স্টাফ পরবর্তীতে বিষয়টি ভুক্তভোগীর সহপাঠীদের মধ্যে জানাজানি হলে সহপাঠীরা ঐ স্টাফকে উত্তম-মধ্যম দেয় বলে জানা গেছে।

এদিকে ঝিনাইদহের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, অধিকাংশ বাসে রুটপ্ল্যান নাহ থাকায় প্রথমে চলাচলে সমস্যা হতো। প্রায়সময়ই বাসের চালক বা স্টাফকে জিজ্ঞেস করে বাসে উঠতাম। তবে সবকয়টি বাসে নির্দিষ্ট রোডম্যাপ টানানো হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমে আসবে বলে মনে করি।

কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী জানান, এখানে শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাসের সিট কম। ফলে বেশীরভাগ সময়ই আমাদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও অনেকে ভেতরে জায়গায় না পেয়ে বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে যায়। এতে যেকোনো সময়ে বড় রকমের দূর্ঘটনা ঘটবার আশংকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাসে বিভিন্ন নামকরণ থাকে কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষকদের পরিবহনে এমনটা আছে। যেহেতু অধিকাংশ বাস দেখতে একইরকম তাই প্রতিটি পরিবহনের আলাদা আলাদা নামকরণ করা গেলে শিক্ষার্থীদের কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বটে।

সার্বিক বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতে পরিবহন ভোগান্তিতে না পড়তে হয় সে জন্য আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। নতুন বাসও কেনা হয়েছে যেগুলোতে শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার রয়েছে।

বহিরাগত যাত্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।