• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

অস্ত্রধারীদের ফাঁকা গুলি, সংরক্ষিত বনে খামার উপড়ে দিলো বন বিভাগ


❏ বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: সংরক্ষিত বনভূমিতে বাঁধ দিয়ে মাছের খামার তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ। এসময় বন বিভাগের পক্ষ থেকে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়।

বুধবার সকালে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের মেহেরঘোনা রেঞ্জের কালিরছড়া বন বিটের আব্দুর রহমানের ঘোনা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। যুবলীগ নেতা এন্তাজ এর নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একদল অস্ত্রধারী সংরক্ষিত বনে খামার তৈরির কাজ চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রামু থানার রশিদনগর এলাকার গহীন পাহাড়ে আব্দুর রহমানের ঘোনা এলাকায় আনুমানিক ৫ একরের সংরক্ষিত বনভূমিতে স্থানীয় যুবলীগ নেতা এন্তাজের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একদল অস্ত্রধারী লোক আজ বুধবার সকাল থেকে শ্রমিক দিয়ে মাছের খামার তৈরির কাজ করছিল। খবর পেয়ে মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান এর নেতৃত্বে একদল বনকর্মী সেখানে অভিযান চালিয়ে তা উপড়ে ফেলেন। এসময় দখলদাররা উত্তেজনা ছড়িয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করলে বনকর্মীরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ রহমান জানান, সংরক্ষিত বনে ৫০/৬০ জনের অস্ত্রধারী খামার তৈরির সংবাদে অভিযান চালিয়ে ২ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু দখলবাজ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

যোগাযোগ করা হলে এন্তাজ তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘প্রভাবশালীরা এখন অস্ত্রধারী সিন্ডিকেট তৈরি করে বনভূমির উপর হামলে পড়ছে। রশিদনগর এলাকায় এন্তাজ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি বিক্রি, পাহাড় কেটে মাটি ও বালি বিক্রি, বনের গাছ পাচার, বনকর্মীদের উপর হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তিনি একাধিক মামলার আসামি।’

বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি প্রশাসনের অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, ‘যেহারে লোকজন বনভূমির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে তাতে বনভূমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অস্ত্র হাতে লোকজন বনভূমি দখল করছে। প্রায় প্রতিদিন বন বিভাগ এসব দখল ঠেকাচ্ছে। সীমিত জনবল দিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বন বিভাগ।’