• আজ সোমবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

যে সংবাদের শিরোনামে ‘বিব্রত’ সময়ের কণ্ঠস্বর !


❏ শনিবার, অক্টোবর ৮, ২০২২ চট্টগ্রাম

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:  এ যেনো সামাজিক অবক্ষয় আর পারিবারিক মুল্যবোধে চরম অশনি সংকেত!  পিতার বিরুদ্ধে নিজ কন্যাকে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আবারো।

খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নাল মেম্বার পাড়ার মোশারফ হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের কিশোরী মেয়েকে কয়েকবার ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দী ও প্রতিবেশীদের মারফত জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে মোশারফ হোসেন এর সাথে তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের বিচ্ছেদ ঘটে। কিশোরী মায়ের সাথে চট্টগ্রামে বড় হয়। এখন আবারো সংসার শুরু করেন এই দম্পতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোশারফ হোসেন একই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ঢাকাইয়া পাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুস এর বড় ছেলে। এবং কিশোরী খেদাছড়া দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় সময় মোশারফ হোসেন তার মেয়েকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতো। গত মঙ্গলবার রাতে তাদের বাসায় চিল্লাচিল্লির শব্দ শুনেছি। বুধবার সকালে মেয়ের মায়ের কাছ থেকে মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়টি শুনেছি।

মা নাজমা আক্তার বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে মোশারফ হোসেন তার মেয়েকে তিনবার ধর্ষণের চেষ্টা করে। গত মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) রাতে মোশারফ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আমার সামনেই মেয়েকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিই।

মেয়ে আমাকে অনেকবার বলেছে আমি যখন গরু চড়াতে যাই, মেয়ের বাবা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তারপর একরাতে আমি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়ে চিৎকার দিয়ে আমার কাছে চলে আসে।

ভেবেছিলাম এই কথা কাউকে জানাবো না। আমি মেয়েকে নিয়ে আবার চলে যাবো। কিন্তু এখন আর গোপন রাখতে পারিনি। পরদিন সকালে ঘটনাটি বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। টাকা পয়সার অভাবে এখনো মামলা করা হয়নি।

কিশোরী বলেন, বাবা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতো সবসময়। আমাকে খারাপ ভাষায় গালাগালি করতো। মা যখন বাড়িতে থাকতো না তখন বাবা আমার শরীরে হাত দিতো। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে লাইট মেরে শরীরে হাত দিতো। আমি পাশের বাড়িতে চলে যেতাম। রাতে মায়ের সাথে ঘুমাতাম। মায়ের সাথে ঘুমালে মাকে গালাগালি করে বলতো আমি যেনো মায়ের সাথে না ঘুমাই, পাশের রুমে যেনো ঘুমাই। গত মঙ্গলবার রাতে মায়ের সামনেই আমার শরীরের কাপড় খুলে ফেলে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন বলেন, স্ত্রীর সাথে পারিবারিক ঝগড়া ছিলো। মেয়েকে আমি পারিবারিক কাজের জন্য গালাগালি করতাম। রাতে আমরা তিনজন একসাথেই ঘুমাতাম। আমি কখনো মেয়ের শরীরে হাত দেইনি।

বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রহমত উল্লাহ জানান, এই বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আমি সরেজমিনে গিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনো ভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা।

এরকম আরও সংবাদ –

যে সংবাদের শিরোনামে ‘বিব্রত’ সময়ের কণ্ঠস্বর !