• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

জবির ইসলামের ইতিহাসের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু

University news
❏ শনিবার, অক্টোবর ২২, ২০২২ শিক্ষাঙ্গন

জবি প্রতিনিধি: ২০১৬ সালে সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী হলেও এতদিন করোনার আঘাতসহ নানা কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে পারেনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের। তবে এবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাত সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ২০০৪ -২০০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাফায়েত উল্লাহ

শুক্রবার (২১অক্টোবর) সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- মো. ওলিয়ার রহমান মুরাদ (২০০৭-০৮ সেশন), মো. আব্দুস সালাম (২০০৪-০৫ ), মো. কাওছার হামিদ (২০০৮-০৯), মোহাম্মদ মামুন ভূঁইয়া (২০০৯-১০), ড. মো. সাফায়েত হোসেন (২০১১-১২) ও মো. আল আমিন শেখ (২০১২-১৩)।

আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে এই গঠনতন্ত্র মোতাবেক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এরআগে দিনভর নানা আয়োজনে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

সকালে কলা ভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড..ইমদাদুল হকের নেতৃত্বে আনন্দ র্যালি বের করা হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

পরে অডিটোরিয়ামে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। এতে বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকরাও অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, দিনে দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ছে। এখান থেকে দিনেদিনে বিসিএসসহ সব ধরণের চাকরিতে শিক্ষার্থী বাড়ছে। আমাদের কোনো শিক্ষার্থী ভালো করলে আমাদেরই ভালো লাগে।

অ্যালামনাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীদের এই প্লাটফর্ম অনেক বেশি জরুরি। তবে অনেকে হয়তো কমিটিতে জায়গা নাও পেতে পারে তাই বলে এ নিয়ে মন খারাপ করা ঠিক হবে না। বরং পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে কমিটির কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত হবে।

সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল খান সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদেরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে শিক্ষর্থীদের বলবো যে যেখানে যে ধরণের দায়িত্ব পালন করবে তা অবশ্যই নিষ্ঠার সঙ্গে করবে। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পরায়ণতা সবার আগে থাকতে হবে।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাসলিমা জাহানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক মো. কামাল ও খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।

আর স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যালামনাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শামছুল কবির।

পরে বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্বারক তুলে দেয়া হয়। ৩৫ তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বাবু, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. সাফায়েত হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো..আব্দুল মালেক, পুলিশ কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ
বিভিন্ন পেশায় কর্মরত সাবেক প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেয়া হয়।

দুপুরের পর দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গান, আবৃত্তি, র্যাম্প শো, নৃত্য ও রম্য বিতর্ক করে সবাইকে আনন্দে মাতিয়া রাখেন।

এদিকে দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে সবাই অনেকটা স্মৃতিকাতর হয়ে যান। দিনভর গ্রুপ ছবি, সেলফি তোলার ফাঁকে ফাঁকে ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করেন সবাই। আর দিনের সবশেষ আকর্ষণ ছিলো র্রাফেল ড্র। এতে ৩০ জনকে দেয়া হয় বিশেষ পুরষ্কার।

এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আহ্বায়ক শাফায়েত উল্লাহ বলেন, সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী দিনে বিভাগের কল্যাণে পদক্ষেপ নেয়া হবে। একইসঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবে এই কমিটি। আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই।