🕓 সংবাদ শিরোনাম

মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে: ডিবি * হাজারীবাগে ঘরের ভিতর থেকে মা-সন্তানসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার * বাগদান করেও বিয়ে ভেঙে দিলেন নুসরাত ফারিয়া! * মাগুরায় মাদকবাহী পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুই র‌্যাব সদস্যসহ নিহত-৩ * মির্জা ফখরুলকে আটকের বিষয়ে যা বললেন তার স্ত্রী * মধ্যরাতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে আটকের অভিযোগ * শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ারে মানুষ মঙ্গা ভুলে গেছেন : আসাদুজ্জামান নূর * ওয়ালটন নিয়ে এলো ভার্চুয়াল র‌্যামসহ ৮ জিবির স্মার্টফোন ‘প্রিমো আর টেন’ * সৌদিআরবের মরুভূমিতে মাছের আকৃতি পাথর আবিস্কার * ফরিদপুরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক গ্রেফতার *

  • আজ শুক্রবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৪ যুবকের মৃত্যুদণ্ড


❏ রবিবার, অক্টোবর ২৩, ২০২২ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় আলোচিত শিশু তাবাসসুমকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৪ যুবককে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা সকলেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রোববার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক নুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির এই রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডিত ব্যক্তিরা হলেন- বাপ্পি আহম্মেদ, কামাল পাশা শামিম রেজা ও লাভলু শেখ। এদের সবার বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার নছরতপুর গ্রামে।

২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একই এলাকার সাত বছরের মাহি উম্মে তাবাসসুমকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে গ্রামের বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখা হয়। পরে আনেক খোঁজাখুজিঁর পর ওই রাতেই তার মৃতদেহ উদ্ধার করে স্বজনেরা। এ ঘটনার পরপরই বগুড়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর পুলিশ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তাবাসসুমের বাবা-মা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাবাসসুম ও তার বোন গ্রামে দাদির সঙ্গে বসবাস করত। ঘটনার দিনে গ্রামে ওয়াজ মাহফিল চলছিল। সেখানে মিষ্টি কিনতে কয়েকবার যায় তাবাসসুম। সন্ধ্যার পর আবার মিষ্টি কিনতে গেলে সেখানে বাপ্পী তাকে বাদাম কেনার লোভ দেখিয়ে ওয়াজ মাহফিলের পাশে একটি কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে বাকি আসামীরা আগে থেকেই অবস্থান করছিল। এরপর তারা ওই শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এদিকে অনেকক্ষণ নিখোঁজ থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাবাসসুমকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে গ্রামের বাঁশঝাড়ে তাকে আচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাবাসসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরেরদিন তার বাবা বেলাল হোসেন খোকন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে থানায় মামলা করেন। সেই মামলার তদন্তে ২০২০ সালের ২৫ ডিসেম্বর চার আসামী গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে ২৬ ডিসেম্বর বাপ্পী, শামিম ও লাভলু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর কামাল পাশা জবানবন্দি দেন ২৯ তারিখে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন জানান, ধর্ষণ ছাড়াও ময়নাতদন্তে ওই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যারও প্রমাণ পাওয়া গেছে আসামীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে পুলিশ ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর আদালতে মামলার পূর্নাঙ্গ চার্জশিট জমা দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি বলেন, মামলায় সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আজ রোববার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায়ে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা অর্থদন্ডও দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর নিহত তাবাসসুমের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, আসামীদের সবাইকে আমার মেয়ে চিনত। ওদেরকে ভাই বলে ডাকতো। এই রায়ে শান্তি পেলাম আমি।