• আজ শনিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

ভালুকায় তালাবদ্ধ বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি


❏ সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০২২ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

সাজ্জাদুল আলম খান, ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রথম ঘরের একমাত্র মেয়েকে তার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে কৌশলে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের জমি লিখে নিয়ে অসুস্থ স্বামীকে না খাইয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভরাডোবা গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়।

অসহায় ওই ব্যক্তি এখন ক্ষুধার যন্ত্রণায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় প্রথম ঘরের একমাত্র মেয়ে বাদী হয়ে নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলমের সহযোগিতায় শুক্রবার বিকেলে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ আব্দুর রশিদকে এক বদ্ধঘর থেকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

উপজেলার ভরাডোবা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বৃদ্ধ আব্দুর রশিদ (৬৫) ২৮ বছর আগে স্ত্রী জোসনা আরা বেগমকে এক কন্যাসহ তাড়িয়ে দেন। এরপর তিনি বিয়ে করেন সৈয়দ আলীর মেয়ে নারগিস আক্তারকে। এই ঘরেও রয়েছে এক মেয়ে রোকসানা (২০) ও ছেলে নাঈম (৯)।

সম্প্রতি রোকসানাকে বিয়ে দেয়া হয় মেদুয়ারী ইউনিয়নের হলর বাজার এলাকার আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়ার সাথে। এ দিকে বৃদ্ধ আব্দুর রশিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী নারগিস নিজের মেয়ে রোকসানা ও রোকসানার স্বামী বাবুলকে নিয়ে ফাঁদ পাতেন বৃদ্ধ আব্দুর রশিদের সব জমিজমা লিখে নেয়ার জন্য। বৃদ্ধকে এক বদ্ধঘরে আটকে রেখে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দলিল লেখক ফিরোজ শাহীর যোগসাজশে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ১২ শতাংশ জমির হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করেন। পরে ভালুকা সাবরেজিস্ট্রার আসমা আক্তারকে ম্যানেজ করে দলিলটি রেজিস্ট্রি করে নেন।

এই বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, বৃদ্ধ আব্দুর রশিদের প্রথম ঘরের মেয়ে আসমা আক্তার পত্রিকার কপিসহ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, আব্দুর রশিদকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নারগিস আক্তার অমানবিকভাবে একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখেন। তাকে ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মোহাম্মদ আবেদুর রহমান জানান, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেই। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার ও হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।