• আজ শুক্রবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

সময় যতো যাচ্ছে, ততোই বাড়ছে আতঙ্ক

Shatkhira news
❏ সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০২২ খুলনা

জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সময় যত যাচ্ছে সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব ততোই বাড়ছে। তীব্র হচ্ছে বাতাসের গতিবেগ। বাড়ছে জোয়ারের পানির চাপ। সেই সঙ্গে বাড়ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তাও। উপকূলীয় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাইক্লোন শেল্টারে আনা হচ্ছে মহিলা, বৃদ্ধ ও শিশুদের। এদিকে ভারি বর্ষণ ও দমকা হওয়ার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার জনজীবন।

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের মামুনুর রশিদ বলেন, সিত্রাং আমাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। একের পর এক প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমরা ধরাশয়ী হয়ে পড়েছি। আমরা সবচেয়ে আতঙ্কে আছি বেড়ীবাঁধ নিয়ে। এখানকার বেড়ীবাঁধগুলো অত্যন্ত নাজুক। আমরা সব সময় বাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে আছি। নদীতের যে পরিমাণ পানি বাড়ছে তাতে যদি বেড়ীবাঁধ ভেঙে যায় তবে আমাদের দুঃখের শেষ থাকবে না।

পদ্মপুকুরের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। কামালকাটি, ঝাপা, পশ্চিম পাতাখালী, পূর্ব পাতাখালী, চন্ডিপুর চাউলখোলা, পাখিমারা এলাকার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত নাজুক। এলাকাবাসীকে মাইকিং করে সর্তক করা হচ্ছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে শুকনা খাবার ও পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, চারপাশে নদীবেষ্ঠিত গাবুরাকে ঘিরে থাকা বাঁধ আইলার পর থেকে বেশ নিচু হয়ে আছে। এছাড়া ইয়াস ও আম্পানের পর থেকে বড়গাবুরা, হরিশখালীসহ কয়েকটি অংশের বাঁধও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমতাবস্থায় ইউনিয়নের ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিম্নচাপকে ঘিরে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মাইকিং করে মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে সাতক্ষীরায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকায় ৫ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে যার মধ্যে ২০০ কিলোমিটারের ৩৫টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে ঝূঁকিপূর্ণ এলাকায় দূর্যোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির বলেন, দূর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় জেলার ২৫০টির অধিক আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বিকল্প আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ১ হাজার ২০০ স্কুল-কলেজও প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্যোগকালীন জরুরি সাড়া দিতে জেলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এ ছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। ইতিমধ্যে উপকূলের অধিকাংশ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঝড়ের আগেই মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার জন্য স্ব-স্ব উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া। একইসঙ্গে প্রত্যেক ইউনিয়নে মেডিকেল টিম প্রস্তুতকরণ, পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও খাওয়ার পানি মজুদ রাখা, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাধ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।