• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

জাল খারিজে জমি দখল: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের

Panchagar news
❏ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৭, ২০২২ রংপুর

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে খাস জমি নিজের নামে খারিজ করে মার্কেট নির্মাণ করে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ভূমি অফিসের যাচাই বাছাইয়ে উপজেলার পৌরসভার থানাপাড়া এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ৫১ শতক জমির উপর গড়ে তোলা বাবুল সুপার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম বাবুলের জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।

ভূমি অফিস সূত্র জানায়, দেবীগঞ্জ মৌজার ২৫১ নং খতিয়ানের ১৪৮৬ ও ১৪৮৭ নং দাগে এসএ খতিয়ান অনুযায়ী ৫১ শতক জমির মালিক ছিলেন নির্মলা বালা বসু নামে এক নারী। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তা উল্লেখিত জমিটিকে খাস করার প্রস্তাব প্রেরণ করেন। যা পরবর্তীতে XIII/২০/২০০৭-০৮ মিসকেসের মাধ্যমে SA&T act ১৯৫০ এর ৯২(গ) ধারামতে খাস ঘোষণা করা হয়েছে। জমিটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে IX-I/৬৩/২০১১-১২ খারিজ কেসটি টেম্পারিং করে ভুয়া ও নকল ডিসিআর নাম্বার ০৯/১১-১২ তৈরি করে জাল খারিজ খতিয়ানের মাধ্যমে (খতিয়ান নাম্বার ২২৭৫) নিজ নামে হোল্ডিং খুলে অদ্যবধি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন। যার হোল্ডিং নাম্বার ২৩২০।

এই ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার ২৪ আগস্ট মিসকেস XIII/০২/২০২২-২৩ এর শুনানি শেষে জাল খারিজ খতিয়ান ২২৭৫ এর মাধ্যমে খোলা হোল্ডিং ২৩২০ বাতিল করে আনোয়ারুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে।

সূত্রটি আরো জানায়, ভূমি অফিসের তদন্তে উঠে আসে আনোয়ার হোসেন বাবুল ২০১১ সালের যে খারিজ খতিয়ানটি (IX-I/৬৩/২০১১-১২) নিজের বলে দাবি করেন তা দেবীগঞ্জ পৌরসভার কলেজপাড়া এলাকার জামাল শেখের ছেলে রাশেদ আলীর। রাশেদ আলীর খারিজ খতিয়ান টেম্পারিং করে আনোয়ার হোসেন বাবুল নতুন করে হোল্ডিং খুলে কর পরিশোধ করে আসছিলেন।

এই ঘটনায় ১৩ অক্টোবর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবীগঞ্জ থানার এসআই হাফিজ হায়দার বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কোন তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।