তীর্থ উৎসব ঘিরে পাহাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ

Sherpur news
❏ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৭, ২০২২ ময়মনসিংহ

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী বারমারী সাধু লিওর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় তীর্থ উৎসব। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই তীর্থ উৎসব ঘিরে পাহাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। লাখো পূণ্যার্থীর এই উৎসবকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জানা যায়, প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় ফাতেমা রাণীর তীর্থ উৎসব। শুধু শেরপুরেই নয়, দেশ-বিদেশের প্রায় লাখো পূণ্যার্থী অংশ নেন এই তীর্থ যাত্রায়। মিলন, অংশগ্রহণ ও প্রেরণকর্মে ফাতেমা রানি মা মারিয়া-এই মূলসুরে এবার ২৫তম তীর্থ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আয়োজক কমিটি জানায়, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত বারোমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লীটিতে ১৯৯৮ সাল থেকে বার্ষিক তীর্থ স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। আর তখন থেকেই পালন করা হচ্ছে তীর্থ উৎসব। উপাসনা করার জন্য এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৮ ফুট উঁচু দেশের সবচেয়ে বড় মা মারিয়ার মূর্তি।

করোনার ধকল কাটিয়ে এবারো মহাসমারোহে হচ্ছে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

কাঞ্চন মারাক, শ্লাগাসহ অনেকে বলেন, ‘প্রতি বছরই তীর্থ উৎসব হয়ে থাকে। প্রতি বছরই এখানে দেশ-বিদেশ থেকে লোকজন আসে। এ বছরও আসবে বলে আমরা আশা করছি। করোনার কারণে কয়েক বছর এ উৎসব ঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এ বছর ভালোভাবে পালন করব।

বারোমারী খ্রিষ্টান মিশনের ফাদার তরুণ বানোয়ারী জানান, আগত তীর্থযাত্রীদের জন্য সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার ভক্তসমাগম বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

বারমারী ধর্মপল্লীর সহ-সভাপতি ও সাবেক ট্রাইবাল চেয়ারম্যান মি. লুইস নেংমিনজা জানান, এবারের তীর্থ উৎসবে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকার বনানীর মেজর সেমিনারীর প্রাক্তন রেক্টর রেভারেন্ট ফাদার গাব্রেল কোরাইয়া।

পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘যার যার ধর্ম ও উৎসব সে সে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’