• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

যেকোনো সময় সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন বিএনপির এমপিরা: ফখরুল

Rangpur news
❏ শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২২ জাতীয়

সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (রংপুর): বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে নির্বাচিত যে কয়জন সংসদ সদস্য আছেন তারা পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল থেকে যেকোনো সময় এ সংক্রান্ত নির্দেশ আসবে বলে জানান তিনি।

শনিবার বিকেলে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ তিনি এই কথা বলেন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছিলেন, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে চূড়ান্ত রূপরেখা করতে যাচ্ছে বিএনপি। এই রূপরেখা চূড়ান্ত হলে বর্তমান একাদশ সংসদে দলের যে কয়জন সংসদ সদস্য আছেন তারা পদত্যাগ করতে পারেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দলীয় সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ।

বর্তমান সংসদে বিএনপির সাতজন এমপি আছেন। তারাও পদত্যাগে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন এমপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে সংসদ থেকে পদত্যাগের আগ্রহ জানিয়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নাকি জনগণকে ভয় পায় না, তাহলে দুই দিন আগে গাড়ি বন্ধ করল কেন? বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই জেগে উঠবে এবং এই ভয়াবহ এক নায়ক হাসিনা সরকারের পতন ঘটাবে।

এই সমাবেশের একটাই কারণ। একজন মাত্র ব্যক্তি একটা মাত্র দল গত ১৫ বছর ধরে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্যাতন করছে। বিএনপির ওপর নির্যাতন করছে। আমাদের সমস্ত দেশটাকে তারা কুড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম কেন? হাসিনার এই বাংলাদেশ দেখার জন্য? আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম ভোট দিয়ে প্রতিনিধির নির্বাচিত করতে পারব সেজন্য। এখন কি আমরা ভোট দিতে পারি? আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। এর আগে ১৪ সালে ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেছে। আমরা সেই নির্বাচন বাংলাদেশে হতে দেব না।

নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সোজা কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, সাফ কথা। আমাদের একটাই দাবি, হাসিনার পদত্যাগ। আমাদের দাবি সংসদকে বিলুপ্ত করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে তাদের মাধ্যমেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। সেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট হবে এবং জনগণ তাদের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত করবে।

আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। এখন কি ঘরে ঘরে চাকরি আছে? চাকরি দিয়েছে? আওয়ামী লীগের লোক হলে চাকরি দেয়। ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিলে চাকরি হয়। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। তাই এই ঘুষখোর, এই ভোট চোরদের আর মানুষ দেখতে চায় না।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখন আবার নতুন একটি ধোয়া তুলছে। জঙ্গিবাদ আবার বাংলাদেশের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটা হচ্ছে আরেকটি চক্রান্ত। বলেছে যারা অগ্নিসংযোগ করেছে, জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। ওই অস্ত্র আপনাদের ভোঁতা হয়ে গেছে। ওই অস্ত্র আর চলবে না। আপনাদের আসল চেহারা সবাই জেনে গেছে। পৃথিবীর মানুষ জেনে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা তাদের রিপোর্টে লিখেছে, এই সরকার যা বলে মিথ্যে বলে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার মানবাধিকার সম্পর্কে যেসব রিপোর্ট দেয় তা মিথ্যে। এখানে মানবাধিকার নেই। মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে কথা বলতে দেয় না। নির্বাচনের পূর্বে সভা করতে দেয় না, নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয় না। কথায় কথায় হকিস্টিক, রামদা, আর বন্দুক নিয়ে আসে।
ফখরুল বলেন, ‘আর চলতে দেবে না এদেশের মানুষ। দেশের মানুষ এখন রুখে দেবে। ওই বন্দুক, ওই পিস্তল, ওই লাঠি, ওই হকিস্টিক সব ভেঙে চুরমার করে দেবে।

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপক্ষে সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশ করছে বিএনপি। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনার পরে আজ রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ সম্পন্ন করেছে দলটি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাই চেয়ারম্যান ডাক্তার এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ ও জাহিদুর রহমান জাহিদ প্রমুখ।