• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, টালির ঘর বিলুপ্ত

Chudanga news
❏ শনিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২২ খুলনা

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়েছে টালির ঘর। টিকে ছিলো রান্না ঘর ও গোয়াল ঘর। (সিমেন্টের তৈরী শিট) বাজারে আসায় বন্ধ হয়ে গেছে রান্না ঘর ও গোয়াল ঘরের ছাউনী। টালি বিক্রি না হওয়ায় টালি খোলাগুলো বন্ধ হয়েগেছে। পেশা বদলে অন্য পেশায় চলে গেছে টালি তৈরির নিপুণ কারিগররা।

জানা গেছে, এক সময়ে গ্রাম বাংলায় মাটির ঘরে খড়ের ছাউনীর পাশাপাশি অনেক পরিবার মাটির ঘরের উপর টেকসই টালির ছাউনী দিতো। এ ঘর পানি, রোদ বৃষ্টি ও আগুন থেকে নিরাপদে থাকতো। এজন্য এর কদর ছিলো বেশি। যেখানে টালি তৈরি হতো তাকে বলা হতো টালি কারখানা/টালিখোলা।

ব্যবসায়ীরা এলাকা ভিত্তিক টালি খোলা তৈরি করে ব্যবসা করতো। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের কাঁঠাল তলায় মহাসড়কের ধারে জাকির হোসেন ও আঃছামাদ পৃথক দুটি টালি কারখানা/টালিখোলা তৈরি করে দীর্ঘ ২০বছর যাবত ব্যবসা করে আসছিলো। প্রতিটি কারখানায় ৭ থেকে ৯জন কারিগর কর্মরত থাকতো। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় কাঁচা ঘরের পরিবর্তে দালান কোঠা ও টিনের ঘর তৈরি হচ্ছে। টিকে ছিলো টালির রান্না ও গোয়াল ঘর, এটাও এখন বিলুপ্ত। টালি ফেলে সিমেন্টের তৈরি শিট ব্যবহার করছে। টালি বিক্রি না হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে এসব টালিখোলা। সেখানে এখন “স” মিল বসিয়ে তৈরি হয়েছে কাঠ গোলা। অনেক ব্যবসায়ীরা সেখানে কাঠ রেখে কাঠের ব্যবসা করছে।

টালি কারখানা মালিক জাকির হোসেন জানান, জমি লিজ নিয়ে টালি কারখানা শুরু করেছিলাম। ব্যবসা ভালোই চলছিলো। বাজারে সিমেন্টের শিট আসায় টালি শরিয়ে ফেলে সবাই শিট দিয়ে ছাউনি দিচ্ছে। ফলে টালি বিক্রি আস্তে আস্তে কমে আশে। লেবারদের পারিশ্রমিক দেওয়ায় কষ্টকর হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে তিন বছর আগে টালি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এখন টালি কারখানার উঠিয়ে দিয়ে “স”-মিল বসিয়েছি। এর আগে তার পাশের ছামাদ আলি ও তার কারখানা বন্ধ করে দেয়।

টালি তৈরির মিস্ত্রি জয়রামপুর হাজী পাড়ার আ:হালিম জানান, গত ১৫বছর ধরে টালি তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করে আসছিলাম। ভালো আয়-রোজগার করছিলাম। টালির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ কাজ ছেড়ে কাঠের ব্যবসা করছি।

দামুড়হুদা উপজেলার দৈউলী গ্রামের সমশের আলি জানান, তাদের ছিলো খড়ের ঘর। দুই তিনবার আগুন লেগে খড়ের ছাউনী পুড়ে যাওয়ায় টালি ছাউনী দিয়েছিলো তারা। এই ঘরে রোদ, বৃষ্টি ও আগুন থেকে নিরাপদে থাকা যেত। অনেক আগেই টালি সরিয়ে টিনের ছাউনী দিয়ে বসবাস করছি।

সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব টালি এক সময় কারখানা থেকে ব্যাপক বিক্রি হয়েছে। বিশেষ করে গোয়াল ও রান্না ঘরে টালী ছাউনী ব্যবহার হয়ে থাকতো। সিমেন্টের শিট অনেকটা ভালো টেকসই, এবং ফেরতযোগ্য হওয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য টালি ফেলে দিয়ে এই শিট ব্যবহার করছে। একদিন টালির ছাউনী ঘর স্মৃতি হয়ে থাকবে।